শিরোনাম
  • ফের যে আসন থেকে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল কে এই নতুন মেসি-ইয়ামাল? ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে যা বললেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে যে নতুন নির্দেশনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আলুর দাম নিয়ে যে দুঃসংবাদ শোনালেন বাণিজ্য উপদেষ্টা হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ নিয়ে যা জানালেন আইনজীবী শিশির মনির নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার সরকার নির্বাচন নিয়ে চাপ দিলে পদত্যাগ করবো: সিইসি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
  • একজন আলোকিত ও সৌখিন মানুষের বিদায়

    ইয়াকুব আলী

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:১১ অপরাহ্ন

    একজন আলোকিত ও সৌখিন মানুষের বিদায়

    মুকুল মাস্টার। পুরো নাম মো. মুখলেছুর রহমান। প্রাইমারি স্কুলে তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। আমাদের সবার শিক্ষক। ১৯৫৭ সালে মেট্রিক পাসের পর শিক্ষকতার চাকরি নেন। পোস্টিং হয় নানশ্রী প্রাইমারিতে। এখানেই ছিলেন প্রধান শিক্ষক হয়ে দক্ষিণ নানশ্রী প্রাইমারিতে বদলি হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। সেখান থেকেই তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মিয়াচান সরকার (মিয়াচান্দ মাস্টার) জয়কা ইউনিয়নের এক সময়ের চেয়ারম্যান ছিলেন। মিয়াচান মাস্টার নানশ্রী প্রাইমারি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকও। সেও তো ব্রিটিশ আমলে।  

    মুকুল মাস্টার আমাদের চাচা হন। আব্বার মামাতো ভাই। আবার আমার বন্ধু মাহবুবুর রহমান ফরিদের পিতা। কাকী মেট্রিক পাস ছিলেন এবং ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে চাকরি করতেন। এলাকায় অবস্থান করা নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম চাকরিজীবী নারী।

    আশির দশকে মধ্যবিত্তরা যখন শহরমুখী মুকুল কাকা গ্রামের বাড়িতে কাঠের পাটাতনের দোতলা ঘর তৈরি করেন। বিদ্যুত আসার বহু আগে থেকেই বাড়িতে ১২ বোল্টের ব্যাটারির সাহায্যে বিজলীর ব্যবহার করতেন। বাড়িতে শহরের মতো স্যানিটারি টয়লেট ও ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম তখন থেকেই। টেলিভিশন এ বাড়িতেই প্রথম স্থান লাভ করে। সেও ১৯৮২ সাল থেকে। তার আগে অবশ্য সরকারি টিভি ছিল শিহাব উদ্দীন সরকার সাহেবের বাড়িতে। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন। যখন পাকা রাস্তাঘাট ছিল না এবং এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না- কিছুই ছিল না তখনও কিন্তু মুকুল মাস্টার সন্ধ্যার পর গ্রামের বাড়িতে বসে দৈনিক পত্রিকা পড়তেন। তিনি সংবাদপত্রের নিয়মিত গ্রাহক ছিলেন। এলাকায় আর গ্রাহক ছিল নানশ্রী উচ্চ বিদ্যালয়- আর কেউ নয়।

    শিক্ষক হিসেবে মুকুল কাকা ছিলেন বিশেষ ব্র্যান্ডের। শিক্ষার্থীরা তাঁর ভয়ে অস্থির থাকতো। এমন কড়া শিক্ষক আর ছিল না। তবে তিনি শেখাতে খুব পছন্দ করতেন। আমাদের সময় তিনি দৈনিক হাতে লেখার প্র্যাকটিস দিতেন। সেগুলো দেখে কোন অক্ষরটি কিভাবে বানাতে হবে তার তালিম নিয়মিতই দিতেন। কাকার হস্তাক্ষর ছিল অসাধারণ সুন্দর। এত সুন্দর হাতের লেখা আমাদের এলাকায় আর কারো ছিল না।

    অবসরের পর তিনি নিয়মিত ধর্মচর্চা করেছেন। মসজিদ ও নানশ্রী বাজার ঈদগাহ পরিচালনায় সময় দিয়েছেন নিরলসভাবে দীর্ঘদিন। তিনি দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন এবং সমাজে সততা, পরোপকারিতা, নিঃস্বার্থপরতার চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আমি মুকুল কাকার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।

     

    ইয়াকুব আলী
    সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার (প্রেস এণ্ড মিনিস্টিরিয়াল পাবলিসিটি)
    তথ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা




    সাতদিনের সেরা খবর

    বিবিধ - এর আরো খবর

    আট বিভাগেই বৃষ্টির আভাস

    আট বিভাগেই বৃষ্টির আভাস

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:১১ অপরাহ্ন