গলির দোকানের মাটির হাড়ি থেকে এক চিমটি গুড় তুলে নিল ‘ঝটকু’। ঘোষদের ঘরের পাশ দিয়ে যেতে যেতে দেয়ালে আঙ্গুল ঘষে চলে গেল শয়তান কূলের এ কনিষ্ট সদস্য।
কিছুক্ষনের মধ্যে পিঁপড়া জড়ো হলে গুড়ের চারপাশে।
একটা টিকটিকি গপাগপ গিলছে সে পিঁপড়া।
ঘোষ বাড়ির ছোটমেয়ে রমার আদরের বিড়াল ‘টুসি’ পা টিপে টিপে এগিয়ে যাচ্ছে টিকটিকি তাড়াতে। এ দৃশ্য চোখ এড়ালো না হোসেন বাড়ির শোভনের পোষা কুকুর টমের। সে ছুটে এলো দখল প্রতিষ্ঠায়।
টম তাড়া করল টুসিকে। আদরের ছোট বোনের বিড়াল রক্ষায় দৌঁড়ে এলো চানু। টম টুসিকে কামরে ধরেছে; চানুর হাঁকডাকে কোন কর্ণপাত নেই টমের। শেষ রক্ষায় চানু ইটের টুকরো ছুড়ল; টম খোঁড়া ঠ্যাঙে কো কো করতে করতে ছুটল মনিবের ঘরের দিকে।
প্রিয় কুকুরের কান্নার শব্দ শুনে শোভন দৌড়ে এসেছে। চানু পরিস্হিত বোঝানোর চেষ্টা করল শোভনকে। কিন্তু টমের খোড়ানি আর কোকানিতে তা বিফলে গেল। দু’জনার বাদানুবাদের শব্দে ভীড় বাড়তে থাকল। এক পর্যায়ে লঙ্কাকান্ড বেঁধে গেল দু পক্ষের মধ্যে। পুলিশ আসতে আসতে উভয় পক্ষের বেশ ক’জন আহত; দু’টি মামলা বাড়ল থানায়। “সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা” শিরোনাম হল সন্ধ্যায় সব টিভি চ্যানেলের সংবাদে আর পরদিন সংবাদপত্রে।
মহাখুশি ঝটকু তার ক্যারিশম্যাটিক শয়তানীর জন্য। আর খুশিতে সে বগল বাজাবেই না কেন; দু’বাড়ির শতবর্ষের সম্প্রীতি নষ্ট করতে এক চিমটি গুড়ই যে যথেষ্ট মহাজ্ঞানী(?) দাবীদার এ মানবজাতির জন্য !!