‘আব্বু আমি ছাঁদ থেকে নিচে পড়ে গেছি’। বাবাকে দেখে এই উক্তি করে অলৌকিকভাবে বেচে যাওয়া আহত কন্যা তুবাপরী। সেব জাগো কণ্ঠের ভোলা প্রতিনিধি মনির আসলামীর মেয়ে।
মারওয়া তুবা পরী নতুন বছরের আনন্দ যেন তার জন্য নেই। বছরের শেষ দিন দিবাগত রাতে বমি জ্বর নিয়ে সারারাত কেটেছে। তার নানুর ঢাকায় অপারেশন হওয়ার পর, তুবা তার মা ও নানুর সঙ্গে মুন্সিগঞ্জ মামার বাসায় বেড়াতে যায়। ভালোই কাটছিল তার দিন। বছরের শেষ দিন দিবাগত রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে তুবা। পরদিন সকাল ১১ টার দিকে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে, তার মাকে না দেখে বিল্ডিংয়ের ছাদে খুজতে যায়। এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে যাওয়ার সময়ে ছিটকে পড়ে অসুস্থ তুবা। অলৌকিকভাবে বেচে গেলেও মারাত্মক জখম হয় তার শরীরে। ডান পায়ের রানের মাঝখানে মারাত্মক জখম হয়। রানের মাঝখানের হাড় একাধিক খন্ড হয়। মুন্সিগঞ্জ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতালে রেফার করে তুবাকে। বিকাল ৪ টায় ভর্তি করা হয় তুবাকে।
তুবাপরীর পিতা মনির আসলামী বলেন, রাতে তুবাপরী অসুস্থ খবর শুনে তেমন ঘুম হয়নি আমার, আমি ভোলার চরফ্যাসন বাসায় ছিলাম। ১ জানুয়ারি সকাল ১০ টার দিকে তুবাপরী ও তার বড় বোন উমামা আমাকে কয়েক বার স্কুল থেকেনতুন বই আনার জন্য বলে। আমিও তাদের কথা রাখতে বইয়ের জন্য স্কুলে যাই। ১১ টার দিকে তুবাপরীর দূর্ঘনার খবর শুনি আমি। শুনেই ঢাকার দিকে রওয়ানা দেই। আমি রাত দশটায় হাসপাতালে এসে পৌঁছি। তার আগেই তুবাপরীকে ভর্তিসহ প্রাথমিক দ্বায়িত্ব পালন করেন তার মামা, রাসেল ও আলামিন।
তিনি বলেন, ভোলা থেকে ঢাকায় আসতে মোবাইলে খবর নেওয়ার সময় অনেক বার পরীর কান্না শুনেছি। মাঝে মধ্যে বলত আব্বু কই। আমি রাত দশটায় ষখন হাসপাতালের কেবিনে ঢুকলে ও আমার দিকে চেয়ে প্রথমে বলে, আব্বুগো আমি ছাঁদ থেকে নিচে পড়ে গেছি, আম্মুর দোষ নেই। আমি বুঝিনি। এ বলে শুধু কান্না আর কান্না। কিছু সময়ে আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরি। শান্ত হলে আমি বলি তোমার পাশে আমি বসি, ও না না বলে চিৎকার দিয়ে বললো আমি ব্যাথা পাবো, রাতে ওর পাশে ঘুমাতে চাইলাম, দিলনা, ব্যাথা পাবে বলে। ওর বয়স ৮ বছর পূর্ন হয়ে ৯ বছরে পরছে। একা কখনও ঘুমায়নি, সেই মেয়ে ব্যাথার ভয়ে একা শুয়ে থাকে। আর রাতে ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে ওঠে।
মনির আসলামী জানান, পঙ্গু হাসপাতালের ডা. জাহাঙ্গীরের তথ্যাবধানে ১১২ নং কেবিনে আছে তুবা পরী। সোমবার তার সব পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট আসলেই অপারেশন হবে পরীর। অনেকগুলো পরীক্ষা করায় বেশ কষ্ট হয়েছে পরীর। পায়ের ব্যাথায় যে চিৎকার দিয়েছে আশেপাশের সবাই কাঁদছে। বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়ে পায়খানা, পেশাব বন্ধ হয়ে যায় পরীর। তিন দিন পর সোমবার পায়খানা হয় তার, এরপর কিছুটা স্বস্তি পায় তুবাপরী। সন্ধ্যার পর কিছুটা সতেজ থাকলেও ব্যাথা বেড়ে যাওয়ায় আবার কান্নাকাটি শুরু করে। গত দুই/তিন বছর আগে আমার বাবা ও ছোট ভাই কবির মারা যায়। তারপর এদের নিয়েই আমার পথ চলা। দুষ্টুমি, দৌঁড়াদৌঁড়িতে সারা ঘর যে মাতিয়ে রাখতো, সেই পরী আজ কেবিনে নিথর দেহ নিয়ে শুয়ে আছে। আর চোখের পানি ঝরছে। ২/৩ দিনের মধ্যে পরীর অপারেশন হবে। সে বুঝতে পারছেনা কি হবে । কঠিন ঝড় যাচ্ছে তার জীবনের উপর দিয়ে। বাবা হিসেবে দেখা আর উপলব্ধি কঠিন। তারপরও আশা করি আবার পরী, হাসবে,কথা বলবে, দৌঁড়বে।