২৩ কোটি টাকা ঋণ খেলাপী মামলার পর আদালতের রায়ে অবশেষে চলচ্চিত্র প্রযোজক সন্ধানী কথাচিত্রের ও বেনাপোলের সার ও চাল আমদানিকারক জি,এম এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম মোরশেদের জমি ও বাড়ি দখলে নিল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বেনাপোল শাখা।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেলে যশোর আদালতের নির্দেশ ক্রমে ৫ সদস্যের একটি দল গোলাম মোর্শেদের বেনাপোল পৌর সভার বাহাদুরপুর রোডস্থ ভবের বেড় মৌজায় নির্মিত উক্ত জমি ও বাড়ি ইসলামী ব্যাংক বেনাপোল শাখার ম্যানেজারকে দখল বুঝে দেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দখল নিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত গোলাম মোরশেদ ২০০৬ সালে বিনিয়োগের জন্য ঋনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জমি ও বাড়ি ব্যাংকে মর্টগেজ রেখে ইসলামী ব্যাংক বেনাপোল শাখা থেকে ২৩ কোটি টাকার ঋণ গ্রহন করেন। নির্দিস্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন গোলাম মোরশেদ। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনা ২৩ কোটি টাকা উদ্ধারের জন্য আদালতে অর্থ ঋণ মামলা দাখিল করে। মামলার রায় ডিক্রির ভিত্তিতে ব্যাংক অর্থ ঋণ জারী মামলা দাখিল করে। আদালত অর্থঋণ আদালত আইনের সকল প্রসিডিউর সম্পন্ন করত: অর্থঋণ আদালত আইন ৩৩(৭) ধারা মতে ডিক্রিদার ব্যাংকের অনুকূলে সনদ প্রদান করেন। সনদ শার্শা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ০২/২০১৩ বয়নামা রুপে রেজিস্ট্রি হয় এবং ব্যাংক নামজারীর মাধ্যমে ২০১৩ সাল হতে রেজি:কৃত জমির খাজনাদি পরিশোধ করে আসছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দীর্ঘ দিন মর্টগেজকৃত ও সনদকৃত জমাজমি গোলাম মোর্শেদ দখল ছেড়ে না দেওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থঋণ জারী মামলার তফশিলীভুক্ত ভবের বেড় মৌজার পাকা ভবনসহ জমির দখল উদ্ধারের জন্য আবেদন করলে ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থঋণ আদালত ব্যাংকের অনুকূলে দখল উদ্ধারের আদেশ দিলে আজ মঙ্গলবার যশোরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম ও অর্থঋণ আদালত এর নির্দেশক্রমে প্রসেস সার্ভেয়ার গোলাম মোস্তফা ও প্রসেস সার্ভেয়ার শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল গোলাম মোর্শেদের বেনাপোল বাহাদুরপুর রোডস্থ ভবের বেড় মৌজায় জমি ও নির্মিত বাড়ি ব্যাংকের বেনাপোল শাখার ম্যানেজারকে দখল বুঝে দেন এবং বাড়ির গেটে ব্যাংক তালা লাগিয়ে দখল গ্রহন করেন।
ইসলামী ব্যাংক বেনাপোল শাখার ম্যানেজার মোস্তফা মেহেদী হোসাইন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের লোকজন এসে জমি ও বাড়িটি আমাদের দখলে দিয়েছেন। আদালতের রায়ে এই জমি ও বাড়ি এখন ব্যাংকের নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য বেনাপোলের বিশিস্ট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গোলাম মোরশেদ এর গ্রামের বাড়ি বেনাপোলের ঘিবা গ্রামে। পেশায় চাষী হলেও তার ছোট ভাই বাবুল আক্তার হঠাৎ করে সার আমদানি করে কোটিপতি বনে যাওয়ায় গোলাম মোরশেদও চলে আসে এ লাইনে। আস্তে আস্তে চাল আমদানি শুরু করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন। যশোরের নোয়াপাড়ায় শুরু হয় তার বিশাল ব্যবসা। ক্রমান্বয়ে বেনাপোলে তিনি তৈরি করেন একটি বিশাল ও মনোরম অট্রালিকা, একটি বাগান বাড়ি ও কাগজপুকুর এলাকায় অটো রাইচ মিল। ট্রাক ছিল অসংখ্য। হঠাৎ করে তার দৃস্টি পড়ে চলচ্চিত্রে। তিনি সন্ধানী কথাচিত্র নামের একটি প্রযোজনা অফিস খুলে একের পর এক ছবি করে চলচ্চিত্র অঙ্গনে ঝড় তোলেন। ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রিজে গোলাম মোরশেদের প্রচার বাড়তে থাকে। বেশ কিছু ছবি ব্যবসায়িক ভাবে ফ্লপ করায় গোলাম মোরশেদ আস্তে আস্তে গুটিয়ে ফেলেন নিজেকে। একই ব্যাংকের শাখা থেকে তার ছোট ভাই বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধেও ২৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপী মামলা রয়েছে যশোরের আদালতে।