পিরোজপুর সদর থানার এএসআই মো. রুবেল হোসেনসহ ৫ জনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার পুলিশ। পুলিশ তাদের কাছ থেকে এ এসআই রুবেলের ব্যবহৃত সরকারি পিস্তল, দুই জোড়া হ্যান্ডকাপ এবং একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের শনিবার আদালতের মাধ্যমে সাতক্ষীরা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ এসআই রুবেল ছাড়া অন্য গ্রেফতারকৃতরা হল- পিরোজপুর সদর উপজেলার পান্তাডুবি গ্রামের রহম সিকদারের ছেলে মনির হোসেন, একই গ্রামের আনোয়ার সিকদারের ছেলে সোহেল সিকদার, চর লোহাকাঠী গ্রামের ইউনুস মৃধার ছেলে কালাম মৃধা এবং পিরোজপুর শহরের পূর্ব শিকারপুর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে সাইফুল ইসলাম।
আশাশুনি থানায় ওসি মমিনুল ইসলাম পিপিএম জানান, পিরোজপুর সদর থানার এএসআই রুবেলের নেতৃত্বে গ্রেফতারকৃতরা শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কল্যানপুর গ্রামের রওশন মোল্লার ছেলে আশিকুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এ সময় তাদের ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে এএসআই রুবেলসহ অন্যদের আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে এএসআই রুবেলসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় কল্যানপুর গ্রামের আশিকুর রহমান বাদী হয়ে আশাশুনি থানায় একটি চাঁদাবাজীর মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলায় গ্রেফতারকৃতদের শনিবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে এএসআই রুবেলের সরকারী পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, দুই জোড়া হ্যান্ডক্যাপ এবং তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। এএসআই রুবেল পিরোজপু থানা থেকে কোনপ্রকার ছুটি না নিয়েই লোকজন নিয়ে আশাশুনি এসেছিল।
এদিকে, পিরোজপুর সদর থানার এএসআই গ্রেফতার হওয়ার বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ.জ.মো. মাসুদুজ্জামান জানান, বিষয়টি খোঁজ খবর নিচ্ছি পরে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, এএসআই রুবেলের বাড়ি আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামে। তার পিতার নাম নাম আব্দুল হালিম সানা। রুবেল এএসআই পদে পদোন্নতি পাওয়ার আগে পিরোজপুরের সাবেক পুলিশ সুপারের গানম্যান ছিলেন।