শিরোনাম
  • ফের যে আসন থেকে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল কে এই নতুন মেসি-ইয়ামাল? ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে যা বললেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে যে নতুন নির্দেশনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আলুর দাম নিয়ে যে দুঃসংবাদ শোনালেন বাণিজ্য উপদেষ্টা হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ নিয়ে যা জানালেন আইনজীবী শিশির মনির নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার সরকার নির্বাচন নিয়ে চাপ দিলে পদত্যাগ করবো: সিইসি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
  • শার্শায় সেচ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

    বেনাপোল প্রতিনিধি

    ২ মার্চ, ২০২৩ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

    শার্শায় সেচ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

    সেচ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগের নামে যশোরের শার্শা উপজেলার কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে ব্যবস্থা না নেওয়ায় উপজেলা কৃষি দপ্তর এখন রীতিমত দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। গরীব কৃষকের টাকা নেওয়ার অপরাধে এ কর্মকর্তাসহ জড়িতদের শাস্তি হউক এমনটাই দাবি করেছেন ভূক্তভোগী কৃষকরা।

    জানা গেছে, উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদনে সরকারি নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে আইন অনুযায়ী একজন কৃষককে সেচ লাইসেন্সের গ্রাহক হতে হয়। যেখানে কৃষি বিভাগের একজন উপ-সহকারি, কৃষি কর্মকর্তা, পল্লী বিদ্যুতের একজন সহযোগী, বিএডিসির একজন কর্মকর্তা, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা মিলে একটা তদন্ত কার্যক্রম যাচাই বাছাই সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের পর উপজেলা সেচ কমিটি সরকারি বিধি মোতাবেক লাইসেন্স প্রদান করে থাকেন।

    উপজেলার উলাশী ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে সেচ লাইসেন্স ও  বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। গভীর ও অগভীর সেচ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ চুক্তিতে উলাশী গ্রামের নজরুল ইসলামের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা, মনিরুলের থেকে ২০ হাজার টাকা, বেনেখড়ি গ্রামের শফিউরের থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, পানবুড়ি গ্রামের রিয়াজের থেকে ২০ হাজার টাকা, বুরুজবাগান গ্রামের মোজাম্মেলের থেকে ৫০ হাজার টাকা, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মানিক ও হানিফের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা,  বড়বাড়িয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের পুত্র সাইদুজ্জামানের থেকে গভীর নলকূপের ৮ খুটির লাইন নির্মাণ বাবদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে এ কর্মকর্তা।

    নানা জটিলতার কারণে বিদ্যুত সংযোগ না হওয়ায় টাকা প্রদানকারী কৃষকরা চাপ সৃস্টি করলে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান দেনদরবারের মাধ্যমে ঘুষের নেওয়া টাকার কিছু ফেরত দেন। এ ঘটনা জানতে পেরে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকতা তরুণ বালাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও অজ্ঞাত কারণে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।
    এদিকে ডিহি, লক্ষণপুর নিজামপুর ও বেনাপোল ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একই ধরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ইউনিয়নে অধিকাংশ সেচ লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ নীতিমালা কাগজ কলমে আইন সঠিক থাকলেও বাস্তবে তার কোন মিল খুজে পাওয়া যাবে না।

    অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে উলাশী সেচ লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারে যে অভিযোগ করা হয়েছে এ ব্যাপারে আমি জড়িত নই। যেভাবে লাইসেন্স দিয়েছি তাতে আমার কোন দূর্বলতা নেই বা দূরত্বেরও কোন ঘাটতি নেই। আমার বিরুদ্ধে অনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে সন্তোষজনক জবাব দিবো বলে আশা করছি। আমি টাকা নিয়েছি বা ফেরত দিয়েছি এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। যশোর বিএডিসি‘র সহকারী প্রকৌশলী (নির্মাণ) সোহেল রানা বলেন, অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে কৃষি বিভাগের কোন কর্মকর্তা যদি সংশ্লিষ্ট থাকে এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তার দপ্তর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমাদের কেউ এর সাথে জড়িত না। যদি কেউ জড়িত থাকে তবে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ কুমার মন্ডল বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে লাইসেন্সের বিষয়ে। এটা উপজেলা কমিটির সভাপতি নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তদন্তের পরে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। তদন্তকালীন কিছু বলা যাবে না। তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেচ কমিটির সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলার সেচ কমিটির সভাপতি হিসাবে আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। তবে শুনতে পেরেছি যে উপ-পরিচালক, কৃষি স¤প্রসারণ যশোরের কাছে এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তিনি তদন্ত করছেন। সভাপতি হিসাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে কোন অভিযোগ আসলে সেটা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।

    কৃষি সম্প্রসারণ যশোরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, শার্শা উপজেলায় সেচ সংক্রান্ত কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে, যদি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে আমাদের বিভাগীয় যে শাস্তির ব্যবস্থা আছে আমরা তা গ্রহণ করবো। আমাদের বিভাগীয় একটা তদন্ত চলছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে আমরা জেনেছি তারাও একটা তদন্ত করে যাচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

     




    সাতদিনের সেরা খবর

    সারাদেশ - এর আরো খবর

    যে কারণে ৭ দিন বন্ধ সোনাহাট স্থলবন্দর!

    যে কারণে ৭ দিন বন্ধ সোনাহাট স্থলবন্দর!

    ২ মার্চ, ২০২৩ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন