যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারনের দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের একটি সেফটি ট্যাংকির মধ্য থেকে যশোর পলিটেকনিক এর ৪র্থ সেমিস্টারের মেধাবি ছাত্রী জেসমিন আক্তার পিংকির মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব -৬ সদস্যরা। তারাই এক সহপাঠি পিংকিতে শ্বাসরোধ ও মাথায় ইটের আঘাত করে হত্যা করে লাশ ওখানে রেখে দেয়।
শুক্রবার বিকাল ৩ টার সময় দক্ষিণ বুরুজ বাগান গ্রামের রুমেল নামের এক ব্যবসায়ীর বাড়ির সেফটি ট্যাংকি থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় হত্যাকারী আহসান কবির অংকুর, তার বড় ভাই রুমেল ও সৎ মা হোসনেয়ারাকে আটক করেছে র্যাব-৬ সদস্যরা। মূল হত্যাকারী আহসান কবির অংকুর দক্ষিণ বুরুজ বাগান গ্রামের আকবার আলীর ছেলে।
নিহত জেসমিন আক্তার পিংকি কলারোয়া উপজেলার কাউরিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে। ছেলে ও মেয়ে উভয়ই যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

র্যাব ও পুলিশ জানায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি জেসমিন আক্তার পিংকি যশোর থেকে নিখোঁজ হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনায় যশোর কোতয়ালি থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (জিডি) করা হয়। এ জিডির সূত্র ধরে এ ঘটনাটি যশোর র্যাব-৬ এর নজরে আসে। পরে নিখোঁজ পিংকির পরিবারের সাথে কথা বলে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব। তদন্তের এক পর্যায়ে র্যাব পিংকির সহপাঠি আহসান কবির অংকুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দপ্তরে নিয়ে আসেন। তদন্তে র্যাব জানতে পারে ৫ ফেব্রুয়ারি একটি মোবাইল ফোন থেকে পিংকির পরিবারকে জানানো হয় তার মেয়েকে ভারতে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। পরে ওই মোবাইল এর মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে তার মোবাইল থেকে নাটক সাজাতে আহসান কবির অংকুর এই নাটক সাজায়। পরের দিন আসামী অংকুরের পরীক্ষা থাকায় তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী স্বীকার করে যে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সে নিজেই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত করে। প্রথমে শ্বাসরোধ করে পরে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে লাশ বাড়ির পিছনে সেফটি ট্যাংকির মধ্যে ফেলে রাখে। পরে আজ শুক্রবার বিকাল ৩ টার দিকে ওই বাড়ির সেফটি ট্যাংকির মধ্য থেকে পিংকির লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশসহ অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
যশোর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬) এর কোম্পানী লে. কমান্ডার এম নাজিউর রহমান বলেন, হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় আহসান কবির অংকুর নামে তার এক সহপাঠীসহ তার ভাই ও সৎ মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরো বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।