গত বুধবার আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে দলটির নেতারা হুঁমকি দিয়েছেন এবং সন্ত্রাসী ভাষায় কথা বলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এতই যখন হুঁমকি দিচ্ছেন তাহলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সহায়তা চাইলেন কেন? আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই-এ সরকার ভারতের আনুকূল্যে টিকে আছে কিনা? দেশের জনগণ এটার উত্তর জানতে চায়। ফখরুল বলেন, এ সরকারের মন্ত্রীরা কখন কি বলেন নিজেরাও জানেন না। তারা হুমকি দেন, গালিগালাজ করেন।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে কঠিন একটি সময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে স্বেচ্ছাসেবক দল। আজকে প্রশ্ন উঠেছে-বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন দেশ, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে থাকবে কি থাকবে না। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার সুপরিকল্পিতভাবে তত্ত¡াবধায়ক সরকার বাতিল করে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। সরকার ভয়ঙ্করভাবে সব কিছুর দাম বাড়াচ্ছে। জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সব কিছুর দাম বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন-বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। সংকটতো থাকবেই, আগে থেকে কেন পদক্ষেপ নেননি। করোনার সময় আমরা বলেছিলাম-লুটপাট বন্ধ করেন, করেননি।
তিনি বলেন, বিশ্বে যখন জ্বালানীর দাম কমছে তখন এখানে কমানো হচ্ছে না। যারা দুর্নীতি করে টাকা পাচার করে, তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য এলএনজি গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। সমুদ্র জয়ের গল্প ঢাক-ঢোল পিটিয়ে শোনানো হলেও সেটাকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। দেশের অর্থনীতিকে উন্নয়নের রোল মডেল বলা হয়েছে। অথচ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একবছরে ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে নেমে গেছে। অনেকে দুবেলা ভাত খেতে পান না। এ পরিস্থিতির জন্য একমাত্র আওয়ামীলীগ সরকার দায়ী।
উত্তরায় গার্ডার চাপায় প্রাইভেট কারের ৫ যাত্রী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের কোথাও কোন ডিসিপ্লিন নেই। ওই দুর্ঘটনার জন্য ড্রাইভার আর গার্ডদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এর জবাবতো দিতে হবে সেতু মন্ত্রীকে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এ সরকার সম্পূর্ণ দুর্নীতিবাজ ও চোর-ডাকাতদের সরকার। তাদের কোন বৈধতা নেই।
আওয়ামীলীগ নেতাদের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতায় থেকে চ্যালেঞ্জ করবেন না। ক্ষমতা ছেড়ে দেখুন, জনগণের ক্ষমতা বেশি নাকি আপনাদের ক্ষমতা বেশি। এরা গণশত্রæতে পরিণত হয়েছে। তারা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগের মামলায় সাজা দিয়েছে।
গুম-খুন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার বলেছেন, র্যাবের মাধ্যমে গুম হয়েছে, তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটার আরও তদন্ত করতে হবে। অথচ প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের হাইকমিশনারকেও ছবক দিয়েছেন। আরে, আগে দেশে কতজন গুম-খুন হয়েছে তাই দেখুন। কতজনের মায়ের বুক খালি করা হয়েছে, তার হিসাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, এ সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না। আমরা নিখোঁজদের খোঁজ চাই, তদন্ত চাই। এখন জনগণের ঐক্য গড়ে তুলে রাজপথ দখলের মাধ্যমে এদের পতন ঘটাতে হবে। সেই পথে আমরা এগিয়ে যা্িচছ। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। নিরপেক্ষ তত্ত¡াবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপি নেতা ফজলুল হক মিলন, সরাফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।#