বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফেরত আনতে অর্থবছরের প্রস্তাবিক বাজেটে যে সুযোগ রাখা হয়েছে তা নিয়ে বিএনপির করা সমালোচনাকে দলটির ‘ডাবল স্টান্ডার্ড’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শনিবার বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এই মন্তব্য করেন। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গে দলের অবস্থান তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলসহ দেশের একটি চিহিৃত মহল ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে। তাদের বক্তব্য যদি সত্যই হিসাবেই ধরেনি, তাহলে সাত শতাংশ কর দানের মাধ্যমে কেউ টাকা দেশে নিয়ে আসে, তাহলে মির্জা সাহেবদের খুশি হওয়ার কথা। এখন কেন তারা অভিযোগ করছে? অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলবেন, আর যখন টাকা ফেরত আনার উদ্যোগ নিবে, তখনও অভিযোগ করবেন, সেটাতো আপনাদের ডাবল স্টান্ডার্ড, দ্বিচারিতা। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জরিমানা দিয়ে কালোটাকা সাদা করার তথ্যও তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুইবার কালোটাকা সাদা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ জানে কারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে। পাচারকারী হিসাবে আপনাদের বিশ্ব রেকর্ড। বেগম খালেদা জিয়ার নাম আওয়ামী লীগ নেতারা সম্মানের সঙ্গে উচ্চারণ করে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা উচ্চারণ করি- বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু তারা (বিএনপি) বলে, হাসিনা। তুই। পঁচাত্তরের কথা বলে হত্যার হুমকি দেয়। আমরা কখনো খালেদা জিয়াকে রাস্তার ভাষায় সম্বোধন করি না। তারা রাস্তার ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একই সাথে খালেদা জিয়ার দুই সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান এর বিদেশে টাকা পাচার ও এফবিআই কর্তৃক তদন্তে প্রমানিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন কাদের।
নির্ধারিত কর দিয়ে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার ঘোষণায় পাচারকারীরা আরও উৎসাহিত হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা ঠিক সেইভাবে দেখলে হবে না। দেশের অনেক টাকা পাচার হয়ে গেছে। অন্যান্য দেশেও এই ধরণের সুযোগ দেওয়া হয়। আমরা সেই সুযোগটা দিচ্ছি। আমরা দেখি, যদি এই সুযোগের সুফল না আসে তাহলে আমরা সুযোগটা উঠিয়ে নিবো। এই বাজেটের দেওয়া সুযোগে আমরা সুফল পেতে পারি।
এরআগে প্রস্তবিত বাজেটকে শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে সম্পূর্ন আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠনের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশের ঘুরে দাড়ানোর বাজেট উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা পরবর্তী প্রেক্ষাপট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিশ্ব অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায় প্রস্তাবিত বাজেটটি সম্পূর্ন বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী। জনমুখী, জনকল্যানকর বাজেট উপাস্থাপনের জন্য এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাজেট। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির বাস্তবতায় পৌনে সাত লাখ কোটি টাকার এই বাজেট শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতার প্রতিফলন।
শেখ হাসিনার নিরবিচ্ছিন্ন নেতৃত্বের কারনে বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দেড় দশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাড়িয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যখন গড় মুল্যস্ফীতি যথাক্রমে ৮.৩৯ শতংশ, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ৭.৮ শতাংশ এবং বিশ্বের অন্যান্য অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে মুল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপর। সেখানে প্রস্তাবিত বাজেটে মুল্যস্ফীতি হার শতকরা মাত্র ৫.৬ শতাংশ রাখার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছে শেখ হাসিনার সরকার। এই অর্থবছরে দেশের জনগণ মাথাপিছু আয় দাড়াবে তিন হাজার নয় মার্কিন ডলার।
আন্তর্জাতিক বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশে সহনীয় রাখতে বাজেটে ৮৩ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মুল্যবৃদ্ধির চাপ দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না প্রধানমন্ত্রী সেটা বলেছেন। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুল্য বৃদ্ধিজনিত কারনে সরকারের ব্যয় দিনদিন বাড়ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ কারনে এবারের বাজেটে প্রস্তবনা বাস্তবতার আলোকে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার গুরুত্বের সাথে কিছু চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছে।