লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা সহ কমলনগর ও রামগতির সকল ইউনিয়নে নাগরিকদের নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে এবং জন্ম সনদ ডিজিটালাইজড করা, ভুল সংশোধন কিংবা ইংরেজী নামের ভুল শুদ্ধ করতে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, পৌরসভায় ডিজিটাল সেন্টারে কোন লোক নিয়োগ না দেয়ায় সেখানে কাজ করছে অফিস সহকারী নিরব মজুমদার। সে বেশীর ভাগ পৌর নাগরিকের জন্ম সনদে নাম লিখতে গিয়ে করেছে বানান ভুল। সেই ভুল সংশোধন করতে গিয়ে ভূক্তভোগীকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। বিভিন্ন দপ্তরের দরজায় ঘুরতে হয় অনেকদিন পর্যন্ত। ভূক্তভোগীরা পৌরসভায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ধরনা দিতে হয় বেশ কয়েকবার। এছাড়া প্রতিটি নিবন্ধনে নেয়া হচ্ছে ৩ শত থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। ইউনিয়নগুলোতে নেয়া হচ্ছে আরো বেশী টাকা। ফলে সময় আর অর্থের অপচয়ে হচ্ছেন তারা দিশেহারা।
ভূক্তভোগীরা জানায়, রামগতি পৌরসভায় নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে এবং জন্ম সনদ ডিজিটালাইজড করা, ভুল সংশোধনে কিংবা ইংরেজী নামের ভুল শুদ্ধ করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নতুন সনদ করা বা ভুল সংশোধনে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুন বেশী টাকা গুনতে হচ্ছে তাদের। নিরব পৌরসভার কয়েক হাজার লোকের জন্ম সনদে ইংরেজী নামের বেলায় লিখে দিয়েছে বাংলাদেশী অথবা বাংলা অথবা বাং। কিছু নামে আবার আবোল তাবোল ফ্রন্ট লিখে দেয় নিরব মজুমদার। যার ফলে স্কুল ভর্তি কিংবা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে সময় লাগে ১০/১৫ দিন থেকে মাসাধিককাল। নানা প্রয়োজনে কিংবা স্কুল ভর্তি বা শিক্ষা বিভাগে জন্ম নিবন্ধন সনদ ছাড়া কাজ না হওয়ায় সাধারন মানুষ, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বেকায়দায়। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত নিরব মজুমদার বলেন, নামের ভূল হতে পারে তবে নির্দিষ্ট ফির বাহিরে কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না।
উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা তানজিরুল তানিম, আলেকজান্ডার ইউডিসির উদ্যেক্তা শান্ত সহ অনেকে জানান, জাতীয় ভাবে সাইট ডেবলপ করার কারণে কয়েক দিন কাজ বন্ধ ছিল । এতে করে জনগণ দূর্ভোগে পড়েছে। তবে এখন থেকে আবার সাইট চালু হয়েছে। এ দিকে একই হয়রানীর চিত্র কমলনগরের সকল ইউনিয়ন গুলোতে জানা যায় জাতীয় পরিচয় পত্র, স্কুল সার্টিফিকেট না দেখেই জম্ম নিবন্ধন করায় দিনের পর দিন জম্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে ।
তবে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:কামরুজ্জামান মহোদয়ের বলিষ্ঠ নেতৃিত্ত্বে উপজেলা নির্বাচন অফিসার এর সহযোগীতায় জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন হচ্ছে। তবে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগনের আন্তরিকতায় জম্ম নিবন্ধন ফি আদায় সহনীয় পর্যায় থাকলেও তাদের অজান্তেই ইউডিসির উদ্যোক্তা ও সচিবগনের হাতে বারতি টাকা দিতে হয় এলাকার জনগণ ।