কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের নাশকতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান এমপি। রোববার (২৮ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের সন্মেলন কক্ষে এক সংবাদিক সন্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, গতকালকে আমি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাভার উপজেলা অফিস পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে যে পরিস্থিতি দেখছি তাতে মনে হয়েছে যে, ওই প্রতিষ্ঠানের সাথেই দুর্বত্তরা যুদ্ধ করেছে। দুর্বৃত্তরা কমোট পর্যন্ত ভাংচুর করেছে। অফিসের ফ্রিজ, এসি, টেবিল, চেয়ারের চিহ্ন পর্যন্ত রাখেনি। সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মতো। এছাড়াও রংপুরের অফিসে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকার মতো। নাশকতাকারীরা আমাদের একটি নতুন গাড়ি ভাঙচুর করেছে। সবকিছু মিলিয়ে প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সাভারের ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বর্ণনা জানতে চাইলে সেই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, স্যার আমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু এই ঘটনায় আমরা সেই একাত্তরের ধ্বংসযজ্ঞ দেখলাম।
এ সমস্ত নাশকতার ঘটনায় কোন মামলা করা হয়েছে কিনা প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, এই নৃশংস ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনের কাছে থেকে লুটকৃত মালামালের কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া গেছে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা এখনও বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে এটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছি যে, এরা কেউই ছাত্র নয়। স্কুল-কলেজের তো নয়ই, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াও না এটা আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। তবে যারা রাজধানীতে বিটিভি, সেতু ভবনে, ডাটা সেন্টার, মেট্রোরেল সহ অন্যান্য স্থাপনায় ব্যাপক নাশকতা চালিয়েছে তাদের মতোই কিংবা এরা একই গোষ্ঠীর বলে আমরা ধারণা করতে পারি। কারণ নৃশংসতার চিত্রটা একই রকম।