ঢাকার বেইলি রোডের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ছয় বছরের ছেলেকে বের করে দিয়ে আটকা পড়ে নিহত পিরোজপুরের তানজিনা এশা'র জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। শুক্রবার (১লা মার্চ) বিকেলে পিরোজপুরের পুরাতন ঈদগাহ মাঠে জানাজা নামায শেষে তাকে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে নিহত তানজিনা এশা'র লাশবাহী গাড়ী দুপুর ৩টার দিকে পিরোজপুরের নড়াইলপাড়া বাসা আসলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে স্বজনরা। এসময় তার ছয় বছরের শিশু পুত্র আরহামের চিৎকারে পরিবেশ অনেকটা ভারী হয়ে ওঠে।
তানজিনা এশা পিরোজপুর শহরের নড়াইলপাড়া এলাকার নাদিম আহমেদ এর স্ত্রী। তানজিনা এশা পিরোজপুরের অন্যতম মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শহীদ ওমর ফারুক এর বোনে মেয়ে এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেযারম্যান সালমা রহমানের বোনের মেয়ে। তানজিনা এশা একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরিরত ছিলেন।

পরিবারের স্বজনরা জানান বৃহস্পতিবার রাতে ছেলের কাচ্চি খাওয়ার আবদার রক্ষা করতে ঢাকার বেইলী রোডের কাচ্চি ভাই এর রেষ্টুরেন্টে ছেলে ও স্বজনদের নিয়ে যায় এশা। ছয়বছরের একমাত্র ছেলে আরহাম কে বের করে দিয়ে নিজের বের হওয়ার আগেই বিষ্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মারা যায় তানজিনা এশা।
একমাত্র ছেলে আরহাম কাচ্চি খাওয়ার আবদার করলে মা সেই আবদার রক্ষা করতে রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলো। আগুনের ঘটনা ঘটলে স্বজন ও ছেলেকে বের করে দিলেও নিজে আর বের হতে পারেনি। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে তানজিনা এশার। তানজিনা এশা মৃত্যুতে অনেকটাই শোকে স্তব্ধ পৌর শহরবাসী।