যশোরের ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদের খনন কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে । বর্তমানে পৌর সদরের পাশ দিয়ে চলছে খনন।দেরিতে হলেও পুনরায় খননকাজ দেখে খুশীতে অপ্লুত সাধারণ মানুষ কিন্তু খনন কাজ চললেও উচ্ছেদ করা হচ্ছে না অবৈধ স্থাপনা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় লোকজন।
প্রায় তিন বছর আগে থেকে শুরু হয় কপোতাক্ষ নদ খননের কাজ। যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর হতে মনিরামপুর উপজেলা পর্যন্ত ৭৯ কিলোমিটার খনন কাজ চলবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। গত তিন -চার দিন ধরে পৌর এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে চলা নদের অংশ খননের কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেরিতে হলেও এই খনন কাজ দেখে আনন্দিত এ জনপদের মানুষ। তবে নদ খনন করতে গিয়ে এখনও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কোনই উদ্যেগ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
কপোতাক্ষ নদের ব্রিজ সংলগ্ন উত্তরপাশে চলছে খনন কাজ। এস্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে জড়ো করা হচ্ছে নদের পাড়ে। কিন্তু যে স্থানে খনন চলছে সেখানে বজলুর রহমান নামের এক ব্যক্তির ১৩ শতক জমির ওপর একটি বাড়ি আছে। কৌশলে ওই বাড়ি রক্ষা করে খননকৃত মাটি বাড়ির উঠানে ও পাশের বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে। বাড়ি মালিকের দাবি বহু আগে তিনি এই জমি ক্রয় করেছেন। সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন আর তিনি থাকেন ঢাকাতে।
বজলুর রহমানের বাড়ির উত্তর পাশে প্রায় ৪৩ শতক জমি দখলে রেখেছেন বরিশাল থেকে আসা ইয়াকুব আলী নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রায় ৩০ বছর যাবত নদের পাড়ে জমিতে যেনতেনভাবে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। বৃদ্ধ ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে দুলাল হোসেনের দাবি ৩০/৩৫ বছর আগে চৌগাছা মৃধাপাড়া মহল্লার এক ব্যক্তির নিকট হতে তারা এই জমি ক্রয় করেন এবং ক্রয় সূত্রে তারাই মালিক। ২৬, ৬২ এমনকি ৯০ এর রেকর্ডও তাদের নামে বলে দাবি করেন তিনি। প্রথম দিকে নদ খনন শুরু হলে তিনি জমি রক্ষায় বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ঝাপ শুরু করেন। কিন্তু তেমন কোন সাড়া না পেয়ে এক প্রকার চুপ হয়ে যান। সম্প্রতি নতুনভাবে নদ খনন শুরু হলে ইয়াকুব আলী রাতের আঁধারে ইট- বালি খোয়া রড এক কথায় বাড়ি নির্মানের সমস্ত সামগ্রী একত্রিত করে নদ পাড়ে বহুতল ভবন নির্মান কাজ শুরু করেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় অনেকেই নিষেধ করেন। কিন্তু কোন কথায় তিনি কর্ণপাত করেননি। মঙ্গলবার ওই বৃদ্ধার বাড়ির কাছে খনন শুরুর আগেই তিনি ঘরের পোতা পর্যন্ত ঢালাই সম্পন্ন করেছেন।
ইয়াকুব আলীর ছেলে দুলাল হোসেন বলেন, জমি আমাদের, তাই বাড়ি করাও আমাদের অধিকার। সেই ধারনা থেকে বাড়ির কাজে হাত দিয়েছি। খনন কাজে নিয়োজিত এস্কেকেভেটর চালক শাহিনুর রহমান বলেন, উনি যতই বাড়ি করুক তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
ঠিকাদার রেজাউল ইসলমের বরাত দিয়ে খননকাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আব্দুল লতিফ বলেন, বর্তমান যেখানে খনন চলছে এই জায়গায় নদের আড় হবে ৫০ দশমিক ৪০ মিটার ও নদের তল হবে ৩২ মিটার। আমরা নদ পাড়ের অবৈধ সব কিছু উচ্ছেদের জন্যে বলেছি। যদি এ সব স্থাপনা ভাঙ্গা না হয় তাহলে হয়ত খনন কাজবন্ধ হয়ে যাবে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।