যশোর শহরে হরিজন (সুইপার) পল্লীতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে শহরের মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তুপ ফেলে রেখেছে হরিজন সম্প্রদায়। নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
যশোর পৌরসভার হরিজন শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে ময়লার স্তুপ জমা পড়েছে। ময়লার দুগর্ন্ধে পথচারীদের মুখে কাপড় দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩ টার দিকে পৌর কতৃপক্ষের নির্দেশে যশোর পৌরসভার রেল স্টেশন হরিজন কলোনীর বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়, এতে সারাদিন বিদ্যুৎ বন্ধ ছিলো। ৬ ফেব্রুয়ারী সকাল থেকে পৌরসভার হরিজন শ্রমিকরা অনির্দিস্টকালের জণ্য পরিচ্ছন্ন কাজ বন্ধ করে দেয়।
শহরের রেলগেট গেট এলাকার রোকনুজ্জামান বলেন, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ময়লা না নিয়ে যাওয়ায় পশু—পাখিতে এসব ময়লা ছড়াচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে শহরজুড়ে। জরুরীভাবে এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া দরকার।
পুলিশ লাইনের বাসিন্দা কামাল হোসেন জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ওপরেই ময়লা আবর্জনা ছড়ানো ছিটানো আছে। এসব ময়লা পরিস্কার না করায় দুর্গন্ধ ছাড়চ্ছে শহরে। এ কারণে শহরে চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে। পৌরসভার সাথে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের যে সমস্যা আছে তা সমাধান হওয়া জরুরী।
যশোর পৌরসভা হরিজন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিরণ লাল সরকার বলেন, বর্তমান মেয়র আমাদের সাথে আলোচনা না করে রেল স্টেশন এলাকার হরিজন কলোনির বিদ্যুৎ লাইন গত দুইদিন ধরে বিচ্ছিন্ন কওে রাখা হয়েছে। তার প্রতিবাদে আমরা পরিচ্ছন্ন কর্মীরা পৌরসভার সকল পরিচ্ছন্ন কাজ বন্ধ রেখেছি। আমরা নিজের আলোচনা করেছি। আজ থেকে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেব।
যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকছিমুল বারী অপু বলেন, পৌরসভার কোন কোন এলাকায় এনজিও কর্মীরা কাজ করে আবার কোন কোন এলাকায় পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা কাজ করে। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা যে এলাকায় কাজ করে এদের কিছু পরিচ্ছন্ন কর্মী স্ট্রাইক করেছে।
তিনি আরও বলেন, এখন তারা পৌরসভার ইলেকট্রনিক লাইন নিয়ে ফ্রিজ, এসিসহ সকল লাইন চালায়, কিন্তু কোন বিল দেয় না। এই কারণে পিডিবির কাছে পৌরসভা ৫ কোটি টাকার বিদ্যুত বিল বকেয়া আছে। আমরা পৌর সভা এ টাকা পরিশোধ করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের রোডের লাইনও কেটে দিয়েছিল কিন্ত পরে আমরা এটা প্রিপেইড মিটার করে নিয়েছি ও বাকি সব বিল প্রতিমাসে দুই মাসের করে পরিশোধ করে দেবো। তবে হরিজন কলোনীর বিদ্যুৎ বিল আমরা পরিশোধ করিনি। ওদের বিদ্যুৎ তো পৌরসভার কোনো কাজে লাগছে না। তারা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, হরিজনদের ৩টি কলেনীর বিল বাকি শুধু সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা। তাদের এ টাকা পৌরসভা পরিশোধ করবে না। তারা বলছে ওদের দাবি না মানলে তারা ডাস্টবিনের ময়লা নেবে না ও রাস্তা ঝাড়ু দেবে না। এখন তারা যাই করুক তাদের সাথে কোন কম্প্রোমাইজ করবে না পৌরসভা।