দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুরে প্রথমবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েও পরে সে নৌকা ছেড়ে দিতে হলো তাদের। আর তারা হলেন- পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আশরাফুর রহমান।
পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন এডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস এবং পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে পেয়েছিলেন মোঃ আশরাফুর রহমান।
কানাই লাল বিশ্বাস এর বাড়ি পিরোজপুর-২ আসনের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার মিয়ারহাট এলাকায় এবং মো: আশরাফুর রহমানের বাড়ী মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়ায়। আশরাফুর রহমান মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের আওয়ামী লীগ তাদের প্রাথমিকভাবে দলীয় মনোনয়ন দিলেও পরবর্তীতে ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল জাতীয়পার্টি-জেপি (মঞ্জু) এবং জাতীয় পার্টি-জাপা (এরশাদ)কে যথাক্রমে পিরোজপুর-২ এবং পিরোজপুর-৩ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এসব আসনের মধে পিরোজপুর-২ আসনে জেপি প্রার্থী নৌকা নিয়ে এবং পিরোজপুর-৩ আসনে জাপা প্রার্থী তাদের দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচন করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ফলে প্রথমবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলেও নৌকা না পেয়ে তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত এডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস বলেন, আমি এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলাম। তবে আমাদের সভানেত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং একটি সুষ্ঠ নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আমি মেনে নিয়েছি। এ জন্য আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।
পিরোজপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আশরাফুর রহমান বলেন, এই প্রথমবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলাম। দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা মেনে নিয়েছি। আগামী নির্বাচনে মঠবাড়িয়াবাসীর উন্নয়নে একজন পরিচ্ছন্ন সেবক হিসেবে কাউকে মনে করলে মঠবাড়িয়াবাসীকে সাথে নিয়ে তার পাশে থাকবো।
উল্লেখ্য, পিরোজপুর-২ আসন জাতীয় পার্টি-জেপি (মঞ্জু) চেয়ারম্যান ও বর্তমান এমপি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এবাবের নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। পিরোজপুর-৩ আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে জাতীয় পার্টি-জাপা (এরশাদ) প্রার্থী, জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোঃ মাশরেকুল আজম রবিকে। তিনি এই প্রথম মনোনয়ন পেয়েছেন জাপা থেকে। তবে তিনি নৌকা নয় জাপা’র দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচন করছেন।
এদিকে, পিরোজপুর-২ এবং পিরোজপুর-৩ আসনে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন শক্তিশালী দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মহিউদ্দিন মহারাজ। তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন।
অন্যদিকে, পিরোজপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টি-জাপা (এরশাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা: রুস্তুম আলী ফরাজী। তিনি বর্তমানে এ আসনের এমপি।
২০১৮ সালে তিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। এর আগেও তিনি পিরোজপুর-৩ আসনের একাধিকবারের নির্বাচিত এমপি ছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তার দল জাপা তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।