শিবগঞ্জে প্রথম আনারস চাষী আব্দুল জাব্বার আনারস চাষের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছেন। তার স্বপ্ন পূরণ হবে বলে মন্তব্য কৃষি সম্প্রসার বিভাগ। আব্দুল জাব্বার হলো জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের হাশর আলির ছেলে ও ভোলাহাট ডিগ্রী কলেজের ইসলামের ইতিহাসের শিক্ষক । সরেজমিনে গেলে তিনি জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি আমি কৃষি কাজ করতে খুব পছন্দ করি। গত বছর আমার ফুফাতো ভাই তুহিন খাগড়াছড়ি থেকে বেড়াতে এসে আমার কাটিমন আমের বাগানে ঘুরার সময় তিনি আনারস চাষে উৎসাহ দিলে আমি খাগড়াছড়ি গিয়ে তার কাছ থেকে জলডুবি জাতের আনারসের চারা প্রতিটি পাঁচ টাকা দরে ২৬ হাজার চারা ক্রয় করে নিয়ে আসি এবং গত পাঁচ এপ্রিল মির্জাপুর মাঠে এক একর ১৩ শতক জমিতে কাটিমন আমের বাগানে আনারসের চারা রোপন করি। রোপনের সময় আমি বেশীর ভাগ জৈব সার প্রয়োগ করি।
আব্দুল জাব্বার বলেন, একই জমিতে কাটিমন আম বাগানের পাশাপাশি আম আনারসের বাগান করেছি। সামনে ডিসেম্বর মাস হতে গাছে আনরস ধরতে শুরু করবে এবং এপ্রিল/মে মাস হতে বিক্রী করতে পারবো। আমার এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। আরো প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু আনারস বিক্রী করে আমার আয়ের লক্ষ্য ধরেছি প্রায় ১০ লাখ টাকা।তাছাড়া আমার ২৬ হাজার আনারস গাছ হতে আগামী মার্চ / এপ্রিল মাসের দিকে চারা থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হবে। এখন থেকেই আনেকেই চারার জন্য ঘুরাঘুরি করছে। তাছাড়া একই জমিতে কাটিমন সহ বিভিন্ন জাতের প্রায় পাঁচ‘শ ঝাড় আম গাছ আছে। গত বছর প্রথমবার প্রায় ১৬ হাজার টাকার কাটিমন আম বিক্রী করেছি। এবারও ১৬ হাজার টাকার বিক্রী করেছে। গত রাতে প্রায়২৫ হাজার টাকার কাটিমন আম চুরি করে নিয়েছে।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরীফুল ইসলাম বলেন, আনারসের মধ্যে জল ডুবি জাতের আনারস সবদিক দিয়ে ভাল। কলেজ শিক্ষক আব্দুল জাব্বার এ জাতের আনারস চাষ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি। তাছাড়া ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি অফিসার রিয়াজ উদ্দিন তার সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছেন। তার সফলতা শুধু সময়ের ব্যাপার। গত কাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক ড:পলাশ সরকার তার একই জমিতে আনারস ও কাটিমন আমের বাগান পরিদর্শন করেছেন এবং তাকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন।আমরা আশাবাদি তিনি আনারসের চাষ করে সফল হতে যাচ্ছেন।