পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠীর গুয়ারেখা ইউপির চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র বিজয়ী প্রার্থীকে প্রকাশ্যে ফুলের মালা পরিয়ে দিয়েছেন একজন ডিউটিরত পুলিশ সদস্য।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উপ-নির্বাচনে অটোরিকশা প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন গাজী মিজানুর রহমান।
গত ১৭ জুলাই গুয়ারেখা ইউপির নির্বাচনে জয়লাভের পর তাকে স্বরূপকাঠী নেছারাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক মুজিবুল হক ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
বিজয়ী প্রার্থীকে ফুলের মালা পরানোর এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার কিছু সময়ের মধ্যেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বাসিন্দা ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
যার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুক্ষণ পর সেই ছবি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়।
স্বরূপকাঠী গুয়ারেখা ইউপির উপ-নির্বাচনে বর্তমান সরকার দলীয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ফারজানা আক্তারকে ৫১৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন গাজী মিজানুর রহমান।
ঐ ঘটনার পরপরই নির্বাচনে ঐ পুলিশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরাজিত প্রার্থী ফারজানা আক্তার অভিযোগ তুলে ধরেন,নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পিরোজপুর থেকে ইন্সপেক্টর মোঃ মহিবুল্লাহ ও এস.আই মুজিবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের একটি টিম আসেন এবং নির্বাচন চলাকালীন সময় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে কাজ করেছেন এবং আমার পক্ষে ভোট দিতে আসা ভোটার ও এজেন্টদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তাই আমি তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির জোর দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ সফিউর রহমান জানান,নির্বাচনে পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। এখানে কেউ যদি তার নিজ ইচ্ছায় ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো কাজ করে থাকেন, তবে এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত দায়। এখানে পুলিশ বাহিনীর কোনো দায় নেই।
এ ঘটনায় এস.আই মুজিবুল হককে শোকজ করে পিরোজপুর পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ফারজানা আক্তার লিখিত অভিযোগ দিলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি জানান।