প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পুরোদমে ট্রেন চলবে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে। এ ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হতে যাচ্ছে। যেহেতু যশোর-ভাঙ্গা রেল লাইন পুরোপরি প্রস্তুত নয়, তাই আপাতত বেশিরভাগ ট্রেন চলবে রাজবাড়ীর উপর দিয়ে। সে লক্ষ্যে এ জেলার রেলওয়ে বিভাগে চলছে জোর প্রস্তুতি। বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজবাড়ীর ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ জিহাদ হোসেন এসব তথ্য জানান।
রোববার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সভার সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান। এছাড়াও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুবর্ণা রানী সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইফতেখায়রুজ্জমান, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক আসাদুজ্জামান রিপনসহ জেলার সরকারি সব দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সব দপ্তরের উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক আবু কায়সার খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী একটি স্মার্ট বাংলদেশ গঠনে সবাই মিলে কাজ করা হবে। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো বিষয় মেনে নেওয়া হবে না। যদি কোনো কাজে বাধা আসে তাহলে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সেটি সঙ্গে সঙ্গে সুরাহা করে কাজ করে যেতে হবে। উপসহকারী প্রকৌশলী ওয়ে মোঃ জিহাদ হোসেন আরও বলেন, রাজবাড়ীতে রেলওয়ের একটি উন্নত মানের ওয়ার্কশপ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে ২ হাজার ওয়ার্কগন একত্রে থাকতে পারবে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে রেললাইনের সঙ্গে থাকা অবৈধ রাস্তাগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। এসব অবৈধ রাস্তা দিয়ে ভ্যানগাড়ি, অটোরিকশা হরহামেশা পারাপার হয়। ফলে বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ অবৈধ রাস্তাগুলো বন্ধে স্থানীয়দের বাধা রয়েছে। এজন্য আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
জানা যায়, রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলায় রয়েছে কমবেশি রেলপথ। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে এসব রেলপথে ৮৮টি লেভেলক্রসিং নির্মিত হলেও এর মধ্যে ৬৮টিই অরক্ষিত। এগুলোয় নেই কোনো প্রতিবন্ধক-গেট বা গেটম্যান।ফলে এসব রেলক্রসিং পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।