রাজবাড়ীর নিমতলীতে রেলপথের একটি পাত প্রায় ২ ইঞ্চি উঁচু হয়ে হেলে যাওয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী সদর উপজেলার নিমতলা রেল ক্রসিং। বৃষ্টি হলেই পরিণত হয় মরণফাঁদে। ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিনের বৃষ্টিতে ৩ শতাধিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে এই স্থানে। দুর্ঘটনা রোধে রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগ ইটের খোয়া ফেলার কাজ করেছে। তাদের ভাষ্য, রেল পথের একটি পাত প্রায় ২ ইঞ্চি উঁচু ও হেলে যাওয়ার কারণেই মূলত ঘটছে এই দুর্ঘটনা।
২ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজবাড়ী-ফরিদপুর রেলওয়ে সড়কের সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের নিমতলা রেলক্রসিংয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইনের পাত একটি প্রায় ২ ইঞ্চি উঁচু হয়ে রয়েছে। সেখানেই সৃষ্টি হয়েছে খনাখন্দের। মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে গেলে স্লিপ কেটে চাকা ঘুরে যায়। রেলক্রসিংয়ের দুই পাশেই রয়েছে স্পিডব্রেকার। রেললাইনের সংকেতিক চিহ্ন দেওয়া রয়েছে।
স্থানীয় অধিবাসী আলমগীর, সোবহান, আনিস, সুমনসহ বেশ কয়েকজন জানান, ঈদের আগের দিন থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতেই রেললাইন পিচ্ছিল হওয়ার কারণে ঈদের আগের দিন, ঈদের দিন ও ঈদের পরের দিন- এই দিনে ৩ শতাধিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বড় ধরনের কোনো ক্ষতি না হলেও দুর্ঘটনার শিকার বেশির ভাগের ছোটখাটো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে শনিবার ও রবিবার ইটের খোয়া ফেলে খনাখন্দ ভরাট করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, এ খোয়া বৃষ্টি হলেই আবার উঠে মরণফাঁদে পরিণত হবে। এখানে রেল, সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করলে দুর্ঘটনার থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।
বসন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সরদার জানান, নিমতলা রেলক্রসিংয়ে গত ৩ দিনে ৩ শতাধিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ খনাখন্দ ভরাট করছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের রেললাইনের পাত ঠিক না করা পর্যন্ত দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে।
নিমতলা রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান টিপু বলেন, মূলত বৃষ্টি হলে রেললাইন পিচ্ছিল হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে বড় কোনো গাড়ির সমস্যা হয় না। সড়কের পাশে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরও মোটরসাইকেল চালকরা দ্রুতগতিতে চলার কারণে গত ৩ দিনে ৩ শতাধিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
নিমতলা রেলক্রসিংয়ে কাজ করা ঠিকাদার আরজু বলেন, রেল সড়কটি মূলত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সংস্কার করার কথা। তার পরও দুর্ঘটনার বিষয়টি জানার পর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে এখানে গত ২ দিন ধরে খনাখন্দ ভরাট ও দুর্ঘটনা রোধে কাজ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা ঘটছে রেলপথের একটি পাত প্রায় ২ ইঞ্চি উঁচু ও হেলে যাওয়ার কারণে। ওই পাতটি সোজা না করা পর্যন্ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, রেলক্রসিংয়ের খনাখন্দ মেরামত কাজ করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিগগির সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।