পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার উপর হামলা, যুবলীগ নেতার চায়ের দোকান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছে।
উপজেলার পত্তাশী বাজারে শুক্রবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় সংগঠিত ঘটনা নিয়ে শনিবার (১ জুলাই) সকালে ১৯ জনকে আসামী করে ইন্দুরকানী থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন টুকু।
এ মামলায় আসামি করা হয়েছে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খাইরুল ইসলাম লাভলু,তার আপন ভাই উপজেলা যুব সংহতির সহ-সভাপতি খাইরুল বাসার সহ একই পরিবারের পাঁচ জন। এছাড়া লাভলুর শ্বশুর স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওছার হোসেন,স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হুমায়ূন শেখ,ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাদিকুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা মহরাজ সহ মামলার এজাহারে আসামির তালিকায় দলের আরো বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,’কর্ম সৃজন কর্মসূচির টাকা চাওয়া নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার পত্তাশী বাজারে মিঠু হাওলাদার নামে এক চা দোকানীকে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে মারধর করার ঘটনার জের ধরে স্থানীয় আ.লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী প্রতিবাদ করায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব লাভলুর সাথে তাদের কথার কাটাকাটি হয়। পরে ইন্দুরকানী থেকে সাতটি মোটরসাইকেল যোগে পত্তাশী বাজারে এসে লাভলুর নেতৃত্বে মহড়া দেয় তার কিছু লোকজন। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পত্তাশী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহবায়ক মজিদ ফকিরের চায়ের দোকানে ঢুকে তাকে মারধর করে কিছু মালামাল ভাঙচুর করে। এছাড়া আ.লীগ নেতা আলাম ফকিরকে মারধর ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শেখ তাদের হাতে জখম হন।
তবে এ ঘটনার সময় লাভলু সহ তার দুএকজন সহযোগী কর্তৃপক্ষের দ্বারা আহত হন বলেও স্থানীয়রা জানান। এদিকে ঘটনার পর শুক্রবার রাতে আহত আ.লীগ নেতা শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে দলীয় নেতা কর্মীরা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে খবর পেয়ে ইন্দুরকানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এদিকে এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে পত্তাশী বাজারে আ.লীগের দলীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মতিউর রহমান সহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এসময় তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।
ঘটনা সম্পর্কে পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলাম ফকির বলেন,চল্লিশ দিনের কর্মসূচির কাজের টাকা নিয়ে ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাওসার হোসেনের সাথে কর্ম সৃজন কর্মসূচির তালিকাভুক্ত শ্রমীক চায়ের দোকানদার মোঃ মিঠু হাওলাদারের সাথে টাকা চাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে তার জামাতা যুবদলের সদস্য সচিব লাভলুর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক মিঠুকে প্রকাশ্যে শারীরিক নির্যাতন করে। এসময় স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করার কারনে ক্ষিপ্ত হয় তারা। পরে সন্ধ্যার দিকে যুবদল নেতা লাভলুর নেতৃত্বে ইন্দুরকানী থেকে আট দশটা মোটর সাইকেল যোগে পত্তাশী বাজারে এসে মহড়া দেয়। এসময় উপজেলা যুব সংহতির সহ- সভাপতি খাইরুল বাশার, স্বেচ্ছা সেবক দলের আহবায়ক হুমায়ুন সহ দলবল নিয়ে আমাদের উপরে ও দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে বঙ্গবন্ধু,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি একেএমএ আউয়ালের ছবি ভাঙচুর সহ অফিসের মালামাল তছনছ করে। এছাড়া যুবলীগ নেতা মজিদ ফকিরের দোকানে হানা দিয়ে তারা নগদ টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে মিঠু হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান,আমার মোবাইলের নগদ একাউন্টে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজের শ্রমিক হিসেবে ১৪০০০ টাকা আসে। আমার কোমর মেরুদন্ডে ব্যথা থাকায় উক্ত কর্মসূচির কাজ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাওসার হোসেনের সাথে কথা হয়েছিল কাজ না করলেও কোন সমস্যা নেই। এ টাকা দুজনে ভাগ করে নিবেন। তিনি আমাকে ৪ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলেন। আর বাকি টাকা তিনি নিয়ে নেবেন। তখন সে আমার কাছে টাকা চাইলে তাকে নগদ আট হাজার টাকা আমি দিয়ে দি। কিন্তু সে দশ হাজার টাকার দাবি করলে আমি বাকি দুই হাজার টাকা দেয়ার জন্য কয়েক দিন সময় নিই। কিন্তু তিনি কোন ভাবে সময় দিতে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে বলি বাকি টাকা আমি ইউএনও স্যারকে দিব সেখান থেকে আপনি নিয়েন। কেন এ কথা বললাম এ কারনে সে তার জামাতা যুব দলের সদস্য সচিব লাভলু মাতুব্বরকে এনে লাভলুর ছোট ভাই খায়রুল বাশার ও সাকিল সহ কয়েকজন শুক্রবার সন্ধ্যার আগে পত্তাশী বাজারে আমার উপরে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মেম্বার কাউসার হোসেনের পায়ের কাছে মুখের ধুধু ফেলে তা চাটতে বলে এবং পা ধরে মাপ চেতে বলে। এসময় তারা মাটিতে ফেলে কিল ঘুসি, লাথি সহ আমার ঘারে পিঠে এবং পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করে ফুলা যখম করে এবং আমাকে ঘাড় ধরে শূন্যের উপরে তুলে আছার মারার চেষ্টা করে। আমি অসহায় হতদরিদ্র একজন মানুষ আমি এর সঠিক বিচার চাই।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শান্তি জোমাদ্দার জানান,চায়ের দোকানদার মিঠুকে সবার সামনে শারীরিক নির্যাতন করার প্রতিবাদ করার কারণে ইন্দুরকানী থেকে এসে আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের উপর হামলা চালায় যুবদল,ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কর্মীরা। তাদের হামলায় আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শেখকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
এরপর তারা বাজারের ভিতরে আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তখন আমি সহ আর একজন অফিস থেকে ভয়ে বের হয়ে যাই। লাভলু একজন বেপরোয়া প্রকৃতির লোক তার কর্মকান্ড সম্পর্কে এ উপজেলার অনেকেই জানেন।
উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব খায়রুল ইসলাম লাভলু বলেন,আমার শ্বশুরকে লাঞ্চিত করার খবর শুনে আমি পত্তাশী বাজারে যাই। আমরা কারো উপরে কোন হামলা কিংবা ভাঙচুর করিনি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো আমাদেরকে ধাওয়া করলে আমরা একটি দোকানে আশ্রয় নিই।
কর্মসৃজনের টাকা থেকে কমিশন আদায়ের কথা অস্বীকার করে ইউপি সদস্য কাওসার হোসেন জানান,মিঠু হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে দশ টাকার রেশনের চাল না নেওয়ায় আমার সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই শ্রমিক আমাকে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনা শুনে আমার জামাই এসে মীমাংসা করে দিলে তার ওপর হামলা করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আমি মিঠুর কাছে কোন টাকা চাইনি।
ইন্দুরকানী থানায় নতুন ওসি আল মামুন বলেন আমি আজ দায়িত্ব নিয়েছি তবে আমি অফিস ভাঙ্গা একটা ঘটনা শুনেছি মামলা হয়েছে আসামি ধরার চেষ্টা চলছে।