সরকার হটানোর যুগপৎ আন্দোলন আরো জোরদারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ ও বিএনপি। দুই দলের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা জানান।
তিনি বলেন, আজকের সভায় আমরা এই সরকারের পতনের লক্ষ্যে যে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছি সেই আন্দোলনকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্যে গণতন্ত্র মঞ্চ ও বিএনপির নেয়া পূর্বের কর্মসূচিগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং পরবর্তিতে কী কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে সে বিষয়েও আমরা আলোচনা করেছি।
আমরা জনগণ আহ্বান জানাতে চাই যে, এই আন্দোলনে তারা সবাই যেন শরিক হন। সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরো বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টি করে আমরা যেন আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি সে ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি।
মির্জা ফখরুল জানান, চলমান যুগপত আন্দোলনে যুক্ত অন্যান্য জোট ও দলগুলোর সাথেও বিএনপি এরকম পর্যালোচনামূলক আলোচনা করবে।
গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়কারী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একটা ধারাবাহিক আলোচনা আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে যে কর্মসূচি সেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। সেই আলোচনা আজকে আমরা কিছুটা করেছি। যতদূর সম্ভব এই কর্মসূচিটা স্বয়ংসম্পূর্ণ করে জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য করে পেশ করবার জন্য আমরা কাজ করছি। খুব শিগগিরই এটাতে সফল হয়ে যাবো আশা করি।
আমরা চারটা কর্মসূচি করেছি যুগপৎভাবে। আমরা এই কর্মসূচিকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে চাই এবং যেটাকে ধীরে ধীরে বিজয়ের জায়গায় পৌঁছাতে চাই। কি রকম করে এটা করা যেতে পারে এর উপরে আমরা নীতিগত কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং সেই আলোচনার মধ্যে আমরা স্থির করেছি যে, আমাদের সঙ্গে যেসব সহযোগী সংগঠন আছে বা অন্যান্য সামাজিক সংগঠনে আছেন যারা এই আন্দোলনে আছেন হয়ত এখনো এক সাথে হননি, জোটবদ্ধ হননি কিংবা আমাদের সাথে মিলিত হননি-ছাত্র সংগঠন বলেন, নারী সংগঠন বলেন, যুব সংগঠন.. তাদের সবাইকে মিলে যাতে আন্দোলনের মধ্যে যাওয়া যায় সেই উদ্যোগের কথা বলেছি। মূল স্পিরিটটা হচ্ছে ঐক্যকে আরো দৃঢ় করা।
তিনি বলেন, আমরা ঢাকা মহানগরে তৎপরতা যাতে বাড়ানো যায় সেই কথা বলেছি। আমরা গণতন্ত্র মঞ্চ দেখেছি যে, বিএনপি মহানগর ঢাকায় কয়েকটা প্রোগ্রাম ঘোষণা করেছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে, প্রোগ্রামটা কার্য্কর হতে পারে।
আমরা এটাকে সমর্থন করেছি। ভালো কর্মসূচি হয়েছে। এটার মধ্যে দিয়ে আমরা সামগ্রিকভাবে সেই প্রোগ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করব যাতে একটা অভ্যুত্থানে দিকে আমরা ধীরে ধীরে যেতে পারি। আমরা আশাবাদী আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে, মানুষের কাছে সমর্থন আমাদের প্রতি আগের মতোই ব্যাপক অকুন্ঠ আছে এবং আমরা বিজয়ের দিকে যাবো।
ন্যূনতম দফার যৌথ ঘোষণা আসছে: এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ন্যুনতম দফা নির্ধারণের আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, আলোচনা চলছে। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা ন্যুনতম দফার বিষয়টা একটা যৌথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে অচিরে আপনাদের কাছে আসবে।
শেখ সেলিমের বক্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) এতোদিন ধরে জার্নালিজম করছেন কখনো ঘূর্নাক্ষরে কারো কাছ থেকে শুনেছেন এধরনের কথা। উনি (শেখ সেলিম) এটা তৈরি করে ফেললেন আর এটা হলো গেলো। সেটাই আপনারা বলছেন। এটা একেবারে পুরোপুরিভাবে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত, বানোয়াট একটা কথা। এটা বেইসলেস।
বিকাল ৪টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি ও গণতন্ত্রের লিয়াজোঁ কমিটির সভা হয়। চলে দুই ঘন্টার বেশ
দুই দলের লিয়াজোঁ কমিটির সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
বৈঠকে গণতন্ত্র লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য গণতন্ত্র মঞ্চের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম ও গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বৈঠকে অংশ নেন।