যশোরের শার্শা উপজেলায় সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর বিক্রি পণ্যসামগ্রীর মধ্যে পঁচা পেঁয়াজ ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে অসন্তোষ জানিয়েছেন ভোক্তারা।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) উপজেলার বাঁগআচড়া ইউনিয়ন পরিষদে সকাল হতে রাত পর্যন্ত কার্ডধারী ভোক্তাদের মাঝে টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। একই দিন উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে।
ভর্তুকি মূল্যে চারটি খাদ্য সামগ্রী পণ্যের মধ্যে দুই লিটার সয়াবিন তেল, এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই কেজি পেঁয়াজ ৪৪৫ টাকা মূল্য দিয়ে পূর্বে ইস্যুকৃত কার্ডধারী ভোক্তারা কিনছেন।
টিসিবির পণ্য উত্তোলনকারী বাগআঁচড়ার আমেনা খাতুন, রাজিয়া বেগম, জয়নব বিবি, সালাম, আলাউদ্দিন একই ইউনিয়নের সামটা গ্রামের কবীরসহ একাধিক ভোক্তা জানান, তাদের ক্রয়কৃত পণ্যের মধ্যে পাওয়া পেঁয়াজগুলোর অধিকাংশ পঁচা। তারা বিষয়টি একাধিকবার ডিলারকে জানালেও কোন সূরাহ মেলেনি।
একই ধরনের অভিযোগ মিলেছে উপজেলাটির ডিহি ও গোগা ইউনিয়নেও। টিসিবি ডিলার কর্তৃক সরবারহকৃত পণ্য সামগ্রীর মধ্যে বেশীরভাগ পেঁয়াজ নষ্ট বলে দাবি জানান ভোক্তারা। অনেকে বলেছেন বস্তা ভর্তি পেঁয়াজের বেশীরভাগই নষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।
পঁচা পেঁয়াজ সরবারহের বিষয়ে বাগআচঁড়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার আলতাফ হোসেনের (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও খাদ্য পরিদর্শক) নিকট জানতে চাইলে টিসিবি পণ্যের পেঁয়াজে আংশিক পঁচন দেখার সত্যতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে আমি জানাবো।

বিষয়টি নিয়ে টিসিবি পণ্য বিক্রির লাইসেন্সধারী ডিলার খান ট্রেডার্স (নাভারন রেল বাজার) এর প্রতিনিধি আসাদ জানান, তারা ঝিনাইদহ টিসিবির আঞ্চলিক অফিস হতে পণ্য সামগ্রী কিনে এনেছেন। কেনা পণ্যে যা পাওয়া গেছে সে অবস্থায় তারা নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করছেন।
পঁচা পেঁয়াজ সরবারহ প্রশ্নে তিনি বলেন, এর সমাধান আমাদের জানা নেই। সকাল হতে বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ১৮৮৬ জন ভোক্তার মাঝে টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
জনগনের সুবিধায় সরকার কর্তৃক ভর্তুকি পেয়ে টিসিবি পণ্য উত্তোলন করে ভোক্তারা উপকৃত হলেও টাকা দিয়ে কেনা পণ্যে পঁচা পেঁয়াজ মেলায় তারা অসন্তোষ প্রকাশসহ দুষছেন ডিলারকে। ডিলারও জানেনা পঁচা পেঁয়াজের সমাধান। ভোক্তারা বিষয়টি সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।