টাকা আত্মসাতের দায়ে গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা নাজমুল হকের তিন বছরের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন যশোরের আদালত। একইসঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ সামছুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আশরাফুল আলম বিপ্লব।
সাজাপ্রাপ্ত নাজমুল হক কুষ্টিয়ার সদরের বটলে গ্রামের আরশেদ আলী শেখের ছেলে। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত নাজমুল হক শার্শার গোগা গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ৫৫ জন গ্রাহকের ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখিয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৪ টাকা ও ১৬ জন গ্রাহকের ঋণের কিস্তির ৭৩ হাজার ৩২৬ টাকা এবং পাঁচ সদস্যের জিপিএস হিসাবের কিস্তির ৬ হাজার ৩৭৪ টাকাসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে আদায় করা মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৫৬ টাকা আত্মসাৎ করেন।
প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক শহীদুল ইসলাম মোড়ল বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন আইনে শার্শা থানায় মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত শেষে আসামি নাজমুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগে সত্যতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক শহীদুল ইসলাম মোড়ল ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
এ মামলার দীর্ঘ সাক্ষীগ্রহণ শেষে নাজমুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তার করাদন্ডাদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত নাজমুল হক কারাগারে আছেন।