কুষ্টিয়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের একটি লিফটে উঠে আটকা পড়েন পুলিশ, আইনজীবী ও আসামীসহ ১২ জন। লিফট থেকেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন একজন। সেখান থেকে বিষয়টি জানানো হয় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারের আগপর্যন্ত অন্তত ৩০ মিনিট ভেতরে আটকে ছিলেন তাঁরা।
রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা সুস্থ আছেন। লিফটে আটকা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আসামি, দুজন পুলিশ সদস্য, কয়েকজন আইনজীবীসহ মোট ১২ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন। সবাই প্রাপ্তবয়স্ক।
কুষ্টিয়া ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা খোরশেদ আনোয়ার বলেন, বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বর থেকে তাঁদের নিয়ন্ত্রণকক্ষে জানানো হয়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের লিফটে কয়েকজন আটকা পড়েছেন। খবর পাওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দ্রুত লিফটের ভেতর আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে কাজ শুরু করেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের চেষ্টায় লিফট ভেঙে ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন।
খোরশেদ আনোয়ার আরও বলেন, ভবনের নিচতলায় মাঝামাঝি স্থানে লিফট আটকে ছিল। তবে সেখানে কোনো লিফট অপারেটরকে পাওয়া যায়নি। তাঁরা জানতে পারেন লিফটটি পরিচালনার জন্য দুজন কর্মচারী আছেন। তবে ঘটনার সময় তাঁদের কেউ ছিলেন না। আটকা পড়া ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, তাঁরা প্রায় আধা ঘণ্টা লিফটের ভেতরে আটকে ছিলেন। এ ঘটনায় লিফট অপারেটরেরা কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
লিফটে আটকা পড়া কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল হালিম গণমাধ্যমকে বলেন, ১৩ জন ধারণক্ষমতার লিফটে ১২ জন ওঠেন। এ সময় কোনো লিফট অপারেটর ছিলেন না। নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার মুহূর্তে লিফট বন্ধ হয়ে যায়। এতে লিফটের ভেতর থাকা ব্যক্তিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি নিজেও ঘামতে থাকেন। আধা ঘণ্টা সময় সবার কীভাবে কেটেছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। তবে তাঁদের সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।