শিরোনাম
  • ফের যে আসন থেকে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল কে এই নতুন মেসি-ইয়ামাল? ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে যা বললেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে যে নতুন নির্দেশনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আলুর দাম নিয়ে যে দুঃসংবাদ শোনালেন বাণিজ্য উপদেষ্টা হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ নিয়ে যা জানালেন আইনজীবী শিশির মনির নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার সরকার নির্বাচন নিয়ে চাপ দিলে পদত্যাগ করবো: সিইসি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
  • পাইকগাছায় বন্ধ হচ্ছেনা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ির বিকিকিনি

    পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

    ১৮ জুলাই, ২০২২ ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন

    পাইকগাছায় বন্ধ হচ্ছেনা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ির বিকিকিনি

    প্রশাসনের উদাসীনতা ও অসতর্কতায় খুলনার পাইকগাছাসহ প্রত্যন্ত এলাকায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রস্তুতকৃত নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত স্বনামে-বে-নামের বিভিন্ন ব্রান্ডের বিড়ি। কোন কোন সময় বিক্রেতাদের দু’এক জন ধরা পড়লেও বরাবর এর সাথে জড়িত হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। সর্বশেষ শনিবার  ভোর রাতে উপজেলার কপিলমুনি এলাকায় পেট্রোল পুলিশের হাতে ৮০ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সন্দেহে রুপালী বিড়ি ও একটি নম্বরবিহীন প্লাটিনা মোটর সাইকেল উদ্ধার হয়েছে।

    কপিলমুনি ফাঁড়ি পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে খুলনা থেকে রাজস্ব কর্মকর্তা জিন্নাতুল ফেরদৌস’র নেতৃত্বে রাজস্ব কর্মকর্তারা জব্দকৃত বিড়ি ও মোটরসাইকেল তাদের হেফাজতে নিয়েছেন।এব্যাপারে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জি,এম এমদাদুল হক জানান, সকালে কপিলমুনি বাজার এলাকা থেকে উক্ত বিড়ি বোঝাই নম্বরবিহীন মোটর সাইকেলসহ এর চালক দেলোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। এসময় সে বৈধ কাগজ-পত্র আনতে চলে যায়। খবর পেয়ে দুপুরের পর জিন্নাতুল ফেরদৌস’র নেতৃত্বে খুলনা রাজস্ব কর্মকর্তারা রুপালী বিড়ির ৮০ হাজার শলাকা ও প্লাটিনা মোটর সাইকেলটি জব্দ করে নিজ হেফাজতে নিয়েছেন।

    এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিদের্শে উপজেলা সেনেট্যারী ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা উদয় কুমার মন্ডল পৌরসদর থেকে ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত মনির বিড়িসহ যশোরের মনিরামপুর থানার চন্ডিপুর এলাকার মো: আলী হোসেন বিশ্বাসের ছেলে মো: রফিকুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেন। জব্দকৃত বিড়ির চালান নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে নিলে পাইকগাছার সোলাদানার বয়ার ঝাপার মৃত আঃ সামাদ বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রউফ বিশ্বাস নিজেকে সাব ডিলার, সাতক্ষীরার আশাশুনীর ছোবান ঢালীর ছেলে রেজোওয়ান ইসলাম রনি ও সোলাদানার বয়ারঝাপা গ্রামের মোঃ আবুল কাশেম এর ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম নিজেদের কোম্পানীর এসআর পরিচয়ে তাদের আমদানিকৃত সমুদয় বিড়ির প্যাকেটে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল আসল বলে দাবি করে তাদের কোম্পানী সরকারকে যথাযথ রাজস্ব দেয় বলে চ্যালেঞ্জ করে। এসময় জব্দকৃত বিড়ির চালান পরীক্ষিত ফলাফলের ভিত্তিতে আইনানুগ যেকোন ব্যবস্থা গ্রহনের শর্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) এর মৌখিক নির্দেশে সাবডিলার উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের বয়ারঝাপা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রউফ বিশ্বাসের জিম্মায় রাখা হয়। এরপর ইউএনও’র নির্দেশে স্যানিটারী কর্মকর্তা উদয় কুমার মন্ডল মনির বিড়ির ৪টি নমুনা প্যাকেট পরীক্ষার জন্য দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে প্রেরণ করেন। যার পত্র নং-উপঃস্বাঃকমঃ/ স্যানি/ পাইক/ খুল/ ২০২১/৯০৮, তারিখ ২৬/১০/২১ইং। এর পরিপ্রেক্ষিতে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিঃ এর অরিজিনেশন, গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: খশরুজ্জামান স্বাক্ষরিত গত ৮ নভেম্বর পত্র নং ৫৩. ১৮. ৩৩০০. ০৩৮.১৬.১৩৪.২০২১-১৩৪ মাধ্যমে উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর উদয় কুমার মন্ডলকে জানানো হয় যে, তাদের কাছে পাঠানো মনির বিড়ির ৪ টি প্যাকেটে লাগানো ব্যান্ডরোলগুলো নকল। সর্বশেষ অরিজিনেশন, গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পাঠানো তথ্যর ভিত্তিতে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম গত ২৪ নভেম্বর ১৩৪৮ নং স্মারকে জব্দকৃত বিড়িগুলি দ্রæততম সময়ের মধ্যে তার অথবা উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টরের দফতরে ফেরৎ দেওয়ার জন্য জিম্মাদার আব্দুর রউফ বিশ্বাসকে নির্দেশ দেন। এরপর অদ্যাবধি তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

    এব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্যকর্মকর্তা উদয় কুমার মন্ডল জানান, এ ঘটনায় তিনি ১৮৬০ এর ২৫৫ এবং ২৬০ ধারায় মনির বিড়ি কোম্পানীর মালিক যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চন্ডিপুর ঘিবা গ্রামের মোঃ জামসেদ আলীর ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ জনের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সর্বশেষ ট্যারিফ আইনে প্রতি প্যাকেট বিড়িতে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোলের সরকার নির্দ্ধারিত মূল্য নির্দ্ধারণ করা হয়েছে, ৯ টাকা ০৯ পয়সা। অথচ বাজারে যত্রতত্র বিভিন্ন স্বনামে বেনামের ভুঁইফোড় বিভিন্ন কোম্পানীর নামে নিম্নমানের বিভিন্ন বিড়ি সরকার নির্ধারিত মূল্য’র চেয়ে নাম মাত্র মূল্যে বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি প্যাকেট ২৫ (শলাকা) বিড়ির দাম ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নিন্ম মানের কম দামের বিড়ি ৮/১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে বিড়ির প্যাকেটে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল গুলোর সরকারের কাছ থেকে খরিদকৃত টাকার চেয়েও কমদামে বাজারজাত করা হচ্ছে।এব্যাপারে কাস্টমসের পক্ষে সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে জরুরী ভিত্তিতে পোষ্ট মাস্টার জেনারেলদেরকে অবৈধ কোম্পানীর কাছে সরকারের ব্যান্ডরোল বিক্রি না করতে অবহিত করেন। সর্বশেষ সরকারের রাজস্ব উসুলের পাশাপাশি বিড়ি শিল্পকে বাঁচাতে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীর পক্ষে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সদয় ও যথাযথ আইনের প্রয়োগে জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

     




    সাতদিনের সেরা খবর

    সারাদেশ - এর আরো খবর

    যে কারণে ৭ দিন বন্ধ সোনাহাট স্থলবন্দর!

    যে কারণে ৭ দিন বন্ধ সোনাহাট স্থলবন্দর!

    ১৮ জুলাই, ২০২২ ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন