ইউক্রেইনে আক্রমণের জেরে রাশিয়ার ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমা বিশ্ব আরোপ করেছে, তা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে মনে করছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ বিষয়ে তিনি হুঁশিয়ার করেছেন, ইউক্রেইনের ওপর যদি কেউ ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার চেষ্টা করে, তারা নিজেদের সশস্ত্র সংঘাতে জড়াচ্ছে বলে তিনি ধরে নেবেন।
রাশিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা কিংবা সামরিক আইন জারির সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
শনিবার মস্কোতে অ্যারোফ্লোট এয়ারলাইন্সের একটি ট্রেইনিং সেন্টারে বিমানবালাদের এক অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
১১ দিন আগে তার দেশ প্রতিবেশী ইউক্রেইনে বিশেষ সামরিক অভিযানের নামে আগ্রাসন শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে, যার লক্ষ্য রাশিয়ার অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়া।
রাশিয়ার বেশ কিছু ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেনের যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম সুইফট থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিদেশে পুতিনের সম্পদ অবরুদ্ধ করারও ঘোষণা এসেছে।
এসব নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের মানে রেকর্ড পতন হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকের সুদের হার দ্বিগুণ করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অ্যারোফ্লোটের অনুষ্ঠানে ইউক্রেইন যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গেয়ে পুতিন বলেন, রুশ ভাষাভাষীদের ‘সুরক্ষার’ জন্যই ‘বেসামরিকীকরণ এবং নাৎসিবাদীদের উৎখাতের’ কাজে হাত দিয়েছেন তিনি।
রুশ বাহিনী ইউক্রেইনে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাচ্ছে না বলে যে পর্যবেক্ষণ পশ্চিমা বিশ্লেষকরা দিচ্ছেন, তার জবাবে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, তার সেনাবাহিনী যে সব কাজ ঠিকঠাক করছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহই তার নেই; সবকিছু পরিকল্পনামাফিকই চলছে।