শেখ হাসিনার হাত ধরে নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

৯ জানুয়ারী, ২০২৪ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনার হাত ধরে নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসন থেকে অষ্টম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মাহবুবুল আলম রোববার রাত সাড়ে ৮টায় এ ঘোষণা দেন।শেখ হাসিনা পেয়েছেন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির এম নিজাম উদ্দিন লস্কর পেয়েছেন ৪৬৯ ভোট।

সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ১০৮টি কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। এ আসনের মোট ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ৩০০ জন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ সালে এ আসনে থেকে যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সাল থেকে টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনে নির্বাচন করে শেখ হাসিনা এর আগে সাতবার সংসদ সদস্য নিরর্বাচিত হন।ব্যক্তি শেখ হাসিনা টানা চতুর্থ বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা । রোববার (৭ জানুয়ারি ২০২৪) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন  ।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২৩ আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পরবর্তী ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনেও তার দল সরকার গঠন করেন। এরপর ২০১৮ সালেও তার দল জয়ী হয় । এবার ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে টানা চতুর্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১৫ বছরের ক্ষমতার মেয়াদে বাংলাদেশ বিভিন্ন রকমের কূটকৌশল প্রত্যক্ষ করেছে। এই সময়ে দেশের বিনিয়োগ, রপ্তানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন খাতে অনেক মাইলফলক অর্জন করেছে। এর আগে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকায় দেশের জনগণের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করায় দেশের মানুষ পুনরায় ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ভোট দিয়ে জয়ী করবে বলে আসা ব্যক্ত করেন দলটির একাধিক নেতা। দেশ ও দেশের বাহিরে আওয়ামী লীগ সরকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থাকলেও সকল বাধা মোকাবেলা করে এবারের নির্বাচনে জয়ী হবে বলে আশা ব্যক্ত করে দলের প্রধান শেখ হাসিনা ।

শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালের জন্মগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫  আগস্ট  বাংলাদেশের জন্য এক কালো অধ্যায়। এই রাতে বিপদগামী সেনাবাহিনীর একটি দল শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের  প্রায় সবাইকে গুলি করে হত্যা  করে।

ঘটনার আগে থেকেই শেখ হাসিনা এবং তার ছোটবোন শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেচে যান। পরে তিনি ভরতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছয় বছর থাকেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।
শেখ হাসিনা সরকার ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে যে যে বিষয়ে সাফল্য লাভ করেছেন, প্রতিবেশি দেশ ভারতের সাথে ত্রিশ বছরের জন্য গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি। পার্বত্য শান্তি চুক্তি, বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ ও দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ  করা। চাষীদের সেবামূলক কার্যক্রম ও ভূমিহীন, দুস্থদের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি চালু করেন।

২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত  শাসনআমলে আ.লীগের অর্জনের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত-মিয়ানমারের সাথে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া, কৃষকদের কৃষিকার্ড, দশ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে চাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবায় দেশেজুড়ে সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৩৮ দশমিক ৪ থেকে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে হ্রাস, জাতিসংঘ কর্তৃক শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ।

 ২০১৪-২০১৮ ক্ষমতায় থাকা কালে আ.লীগের অবদান: বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করণ, ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থল সীমানা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থন, (এরফলে দুই দেশের মধ্যে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান হয়েছে), মাথাপিছু আয় ১,৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণ, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস, ৩২ বিলিয়ন ডলারের উপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন শুরু, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপন।

২০০৬ বিএনপি- জামায়াত জোট ও ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের শিক্ষা খাতে অবদান:
বিএনপির সময় ছিলো স্বাক্ষরতার হার ৪৫ শতাংশ বর্তমানে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ (২ গুণ বৃদ্ধি), বিএনপির সময় প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিলো ৫৪ শতাংশ এখন তা ৯৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ( ২ গুণ বৃদ্ধি), বিএনপির সময় ছিল কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ০ দশমিক ৮ শতাংশ বর্তমানে ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ (২২ গুণ বৃদ্ধি), প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ৪৯ শতাংশ ২০২৩ সালের অর্জন ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ (৪ গুণ হ্রাস পেয়েছে), বিএনপির সময় ছিলো মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৫ জন বর্তমানে ১ লাখ এক হাজার ৮২৮ জন (২ গুণ বৃদ্ধি) ।
প্রাথমিক বিদ্যালয় সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬৭২টি এখন ১ লাখ ১৮ হাজার  ৮৯১টি (প্রায় ২ গুণ বৃদ্ধি), প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৭৮৯ জন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগে অর্জন ৬ লাখ ৫৭ হাজার ২০৩ জন (২ গুন বৃদ্ধি), প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলা শিক্ষক সংখ্যা কারিগরী ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪১ জন আর ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগে অর্জন ৪ লাখ তিন হাজার ১৯১ জন (৩ গুণ বৃদ্ধি), প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা (টিটিসি) ৯টি আর এখন ১৬৬টি (১৮ গুণ বৃদ্ধি) । মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা এবং কারিগরির মাধ্যমিক স্তরসহ ২০০৯ হতে ২০২২ পর্যন্ত মোট ২,৩৮,৩১১ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

> মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আওয়ামী লীগের অবদান:
২০০৬ সালে বিএনপি জামায়াত জোটের শাসনামলে দারিদ্রতার হার ছিল ৪১.৫১%, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ কমিয়ে ১৮.৭% -এ নিয়ে এসেছে (অর্ধেক কমেছে)। ২০০৬ সালে অতি দারিদ্রের হার ছিল ২৫.১% এবং আওয়ামী লীগের অর্জন ৫.৬% (প্রায় ৫ গুণ কমেছে)। বিএনপির আমলে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ছিল ৫৯ বছর এবং বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২.৮ বছর। Access to drinking water খাত ছিল ২০০৬ সালে ৫৫%, আওয়ামী সরকারের অর্জিত খাত ৯৮.৮% (২ গুণ বৃদ্ধি)। বিএনপির Access to sanitary latrine খাতে উন্নয়ন ছিল ৪৩.২৮%, বর্তমানে উন্নীত করণে এর খাত বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭.৩২% (২ গুণের বেশি বৃদ্ধি)। তখন শিশু মৃত্যুর হার ছিল (প্রতি হাজারে) ৮৪ জন এবং বর্তমানে ৪ গুণ কমে দাঁড়িয়েছে ২১ জন। বিএনপি জামায়াত জোটের শাসনামলে মাতৃমৃত্যুর হার (প্রতি লক্ষে) ছিল ৩৭০ জন, আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে মাতৃমৃত্যুর হার (প্রতি লক্ষে) ১৫৬ জন (আড়াই গুণ কমেছে)।

> ২০০৬ বিএনপি- জামায়াত জোট ও ২০২৩ সালে আ.লীগে জোটের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অবদান:
বিএনপির সময় ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের অর্জন ২৮ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট (৮ গুণ বৃদ্ধি), বিএনপি-জামায়াত জোটে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীর হার মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ এখন মোট জনসংখ্যার ১০০ শতাংশ, বিএনপির সময় বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ২৯৮ কোটি টাকা ২০২৩ সালে আছে ৪২ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা, বিএনপির আলমে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা আ.লীগে মাইলফলক অর্জন ৬ হাজার ২৩২ কোট টাকা।

> যে সকল কাজ আওয়ামী লীগ সরকার শূণ্য থেকে শুরু করেছে:
২০০৬ সালে যখন বিএনপি জায়ামাত জোট ক্ষমতায় ছিল তখন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পূনর্বাসনের খাত ছিল শূন্য, ২০২৩ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ১১৫ জন (৮ লাখ ৪১ হাজার ৬২৩ টি পরিবার), উল্লেখ্য- ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আশ্রয়ণের প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে ২ শতক ভূমির মালিকানাসহ গৃহ প্রদান করা হয়েছে। বিএনপির আমলে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলার পরিমাণ ছিল শূন্য, বর্তমানে মোট ২১ টি জেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত নিশ্চিত হয়েছে। ২০০৬ সালে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ছিল শূন্য, ২০২৩ আওয়ামী লীগ ৩৩৪ টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করণে নিশ্চিত করেছে। ২০০৬ সালে ডিজিটাল সেন্টারের সংখ্যা ছিল একদম শূণ্য, বর্তমান বাংলাদেশ পেয়েছে ৮ হাজার ৯৭২ টি ডিজিটাল সেন্টার। বর্তমানে ইউনিয়ন পর্যায়ে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ পেয়েছে ২৬০০ টি ইউনিয়ন, যা ২০০৬ সালে ছিল কল্পনার বাইরে। দেশে বর্তমানে উৎপাদিত মোবাইল ফোন ব্র্যান্ডের সংখ্যা ১৫ টি, বিএনপি আমলে একটা সিঙ্গেল মোবাইল ফোনই ছিল হাতের নাগালের বাইরে। হাইকেট পার্ক ও সফটয়্যার টেকনোলোজি পার্কের সংখ্যা বাংলাদেশে বর্তমানে ৯২ টি, ২০০৬ সালে এর সংখ্যা ছিল শূন্যের ঘরে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংখ্যা ২০২৩ আওয়ামী লীগের ঝুলিতে রয়েছে ৯৭ টি (মোট ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে), সেক্ষেত্রে ২০০৬ সালে বিএনপির ছিল শূন্য। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রাপ্ত উপকারভোগী (টিসিবি কতৃক প্রদত্ত) ২০০৬ সালে ছিল শূন্য, ২০২৩ সালে সাফল্যের সাথে প্রায় কোটি মানুষের (৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খাদ্য সহায়তা প্রাপ্ত উপকারভোগী। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৮৪ লাখ (৮.৪ মিলিয়ন) জন, ২০০৬ সালে ছিল শূন্য।

জেলেদের প্রদানকৃত নিবন্ধন ও পরিচয়পত্রের সংখ্যা ২০০৬ সালে শূন্য, বর্তমানে তার পরিমাণ ৩১ লাখ ৮৪ হাজার জেলে (৩.১৮৪ মিলিয়ন)। ২০২৩ সালে কৃষকদের প্রদানকৃত কৃষি কার্ড পেয়েছে ২ কোটি ৬২ লাখ কৃষক (২৬.২ মিলিয়ন), ২০০৬ সালে যার সংখ্যা ছিল জিরো। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ২০২৩ সালে ৫১ লাখ জন (৫.১ মিলিয়ন), ২০০৬ সালে ছিল জিরো। বিএনপির আমলে বর্গাচাষিদের জন্য কৃষিঋণ কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল শূন্য, আওয়ামী লীগ দিয়েছে ২৮ লাখ  (২.৮ মিলিয়ন) বর্গাচাষিদের জন্য কৃষিঋণ। বর্তমানে সার্বজনীন পেনশন স্কিমের সুবিধাভোগী রয়েছে ৮.৫ কোটি জন (৮৫ মিলিয়ন), ২০০৬ সালে ছিল শূন্য।

> ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগে মাইলফলক অর্জন:
বিএনপির সময় ছিল জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় পাকা সহাসড়ক ১২ হাজার ১৮ কিলোমিটার আর ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের ৩২ হাজার ৬৭৮ কিলোমিটার (প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি), বিএনপির সময় ছিল গ্রামীণ সড়ক ৩ হাজার ১৩৩ কিলোমিটার আর এখন  ২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৬ কিলোমিটার (৭৬ গুণ বৃদ্ধি), ২০০৬ সালে মোট রেলসড়ক ছিল ২ হাজার ৩৫৬ কিলোমিটার ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের  ৩ হাজার ৪৮৬ কিলোমিটার (দেড় গুণ বৃদ্ধি), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা ছিল ১১টি বিমান, আর এখন ২১টি বিমান (২০০৬ সালে প্রায় সকল বিমান ছিল অতি পুরাতন ও জরাজীর্ণ। বর্তমানে সেগুলো অত্যাধুনিক বিমান দ্বারা প্রতিস্থাপন কর হয়েছে।

> ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্জন:
২০০৬ সালে বিএনপির সামাজিক সুরক্ষা সেবার আওতাভুক্ত মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ২১ লাখ জন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের আর্জন ১০ কোটি ৬১ লাখ ১৪ হাজার জন (৫০ গুণ বৃদ্ধি), বিএনপির সময় ছিল খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রমের উপকারভোগী ৪ লাখ ৩০ হাজার জন ২০২৩ সালে ৪ কোটি ৬১ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৬ জন (১০০ গুণ বৃদ্ধি), ২০০৬ সালে বিএনপি জোটের সময় ছির উপবৃত্তি কার্যক্রমের সুবিধাভোগী শূণ্যের (০) কোটায় এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার  ৭৫৬ শিক্ষার্থীতে, বিএনপির সময় ছিল বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত উপকারভোগী ১৫ লাখ জন ২০২৩ সালে এখন তার  ৫৮ লাখ জন (৪ গুণ বৃদ্ধি), বিএনপি জোটের সময় ছিল প্রতিবন্ধী ভাতা ৯৭ হাজার জন এখন তা ২৯ লাখ ১০ হাজার (৩০ গুণ বৃদ্ধি),  ২০০৬ সালে ছিল বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার উপকারভোগী ৫ লাখ ২০ হাজার ২০২৩ সালে ২৬ লাখ জন (৫ গুণ বৃদ্ধি)।

 
 
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৭ম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৮ সালে ৯ম, ২০১৪ সালে ১০ম ও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের পর টানা ৩য় এবং ২০২৪ সালের রোববার (৭ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে টানা চতুর্থ বারের মতো তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে বুধবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এক হাজার ৯৭০ জন প্রার্থী। ২৮টি রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়াই করেন ১৫৩৪ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন ৪৩৬ জন। নওগাঁ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলামের মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ ফলাফল * আওয়ামী লীগ :-বিজয়ী আসন: ২২২* স্বতন্ত্র
:-বিজয়ী আসন: ৬২ * জাতীয় পার্টি (জাপা)
বিজয়ী আসন: ১১ * জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)বিজয়ী আসন: ১ * বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বিজয়ী আসন: ১ * বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি বিজয়ী আসন: ১।তাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় শতভাগ আসনের ফলাফল ঘোষণা শেষে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগ। এর মাধ্যমে দলটি টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।

পরিশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বিকল্প এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ যেমন সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয় ঠিক তেমনিভাবে শেখ হাসিনা বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নের আরেক নাম হয়ে উঠেছেন। ফলে, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি এবং উন্নয়ন ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন। সাফল্য এসেছে নানা দিক থেকে। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  টানা ৪র্থ বার  সরকার গঠন করে উন্নয়নে ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে তাই আগামীর প্রযুক্তি বিপ্লবে নেতৃত্বের আসনেই থাকবে বাংলাদেশ।তাই মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা মারাত্মক অন্যায়। মিথ্যা কথা বলে তথ্য প্রকাশ করা ইসলাম নিষেধ করছে। একটি তথ্য উপস্থাপন করতে হলে অবশ্যই সুন্দর, সাবলীল, যুগোপযোগী মিষ্টি ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।আজ বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। এখন যে স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলছেন তাও শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সম্ভব। তবে বঙ্গবন্ধু কন্যার এই অভিযাত্রায় যুক্ত হতে হবে দেশের সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষকে, স্ব - স্ব জায়গা থেকে নৈতিকতার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক, কলাম লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি।
ইমেইল, drmazed96@gmail.com




বিশেষ কলাম - এর আরো খবর

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস 

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস 

৯ জানুয়ারী, ২০২৪ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

ভাসানীর ঐতিহাসিক কীর্তি ৫৭'র কাগমারী সম্মেলন

ভাসানীর ঐতিহাসিক কীর্তি ৫৭'র কাগমারী সম্মেলন

৯ জানুয়ারী, ২০২৪ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনার হাত ধরে নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার হাত ধরে নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ

৯ জানুয়ারী, ২০২৪ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন