খরায় আমের গুটি ঠেকাতে সেচ ও পানি স্প্রে করার পরামর্শ বিজ্ঞানীদের

মোহা: সফিকুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

২৪ এপ্রিল, ২০২৪ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

খরায় আমের গুটি ঠেকাতে সেচ ও পানি স্প্রে করার পরামর্শ বিজ্ঞানীদের

দীর্ঘ খরায়  চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের গুটি  শুকানোর পর ঝরে পড়ছে। আম টিকানোর নিয়  শঙ্কায় পড়েছেন আম চাষী  ও ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই  ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের বৃষ্টিতে  এ বছর মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় গুটি এসে ছিল কম। গাছে যে কটা আমের গুটি টিকে আছে সেগুলোর বৃদ্ধিও ঠিকমত হচ্ছে না তীব্র খরার  প্রভাবে। ঝরেও পড়ছে গুটি। আম বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, তীব্র খরা  থেকে আমকে বাঁচাতে নিয়মিত দিতে হবে পানি সেচ, প্রয়োজনে গাছে পানি স্প্রে করার পরামর্শও তাদের। 

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার কিছুটা দেরিতেই ফুটেছিলো মুকুল। পরিমানেও ছিলো অনান্য বছরের তুলনায় কম। তারপরও শুরু থেকেই বাড়তি যত্নে বাগান গুলোতে মুকুল থেকে আস্তে আস্তে  বড় হচ্ছে আম। তবে কদিনের তীব্র খরায়  যেন শঙ্কায় ফেলেছে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের। গাছে থাকা আমের গুটির বৃদ্ধি ও টিকে থাকা নিয়ে তারা পড়েছেন চিন্তাায়। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুর এলাকার আম বাগান মালিক রাজন ইসলাম জানান, খরার কারনে আমের গুটির বড় হচ্ছে না, বোটা শুকিয়ে ঝড়ে পড়ছে। আকাশের পানি না  হওযায়  সেচ দিয়াও খুব বেশি কাজ হচ্ছে না, শ্যালে মিশণ  যতক্ষন চলছে ততক্ষন, পানি থাকছে। শ্যালো মিশন বন্ধ করার পর পরই  বাগানে আর পানির দেখা মিলে না।আম সংগঠনের নেতারা বলছেন এবছর শুরু থেকেই বৈরী আবহাওয়ার কারনে তারা আমের আঙ্খিত ফলন নিয়ে চিন্তায় ছিলেন, চলমান দীর্ঘ মেয়াদী খরায় তাদের সেই চিন্তাকে আরো বাড়িয়েছে। অন্যদিকে সেচের কারনে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আম উদ্যোক্তা ও আম ব্যবসায়ী  শামীম খান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে এবছর তীব্র শীতের কারনে দেরীদে মুকুল এসেছিল্, মুকুল আসার পর পরই মার্চ মাসের দু বারের বৃষ্টিতে  মুকুল ঝরে  গিয়েছিল, তখন বৃষ্টির কারনে মুকুলের ক্ষতি হয়েছিলো, যে সময় গুঠি বড় হওয়ার কথা সে সময় দীর্ঘ মেয়ামী প্রচন্ড খরায়  যে কটা গুঠি ছিল তাও আবার শুকানোর পরে ঝরে পড়ছে। খরা  আরো কিছুদিন চললে আরো ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের।এমনিতেই কীটনাশকের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর আম উৎপাদনের খরচ সবক্ষেত্রেই বেড়ে গেছে।আবার এখন সেচ দেওয়ার জন্য অনেকের খরচ আরো বাড়বে। সবমিলিয়ে এবছর একেবারেই স্বস্তিতে  নেই ব্যবসায়ীরা। অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। 

অন্যদিকে মরদানার আম ব্যবসায়ী রুবেল জানান, এমনতিে গত কয়েক বছর ধরে আমের ব্যবসা করে ধরাশায়ী হয়ে আসছি। তারপর এবার একেবারে দেয়ালে পিট ঠেকে গেলো।যে বাগানেই যাচ্ছি সে বাগানেই হাজার হাজার শুকানো গুটি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে মাথায় হাত উঠাতে বাধ্য হচ্ছি। তিনি বলেন একদিকে কীটনাশকের দাম বেশী। অন্যদিকে প্রচন্ড খরায বারবার সেচ দিতে গিয়ে খরচ দ্বিগুণের বেশী হচ্ছে।  সংগে সংগে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সরাসরি বাগানে থেকে আম চাষী ও আম ব্যবসায়ীদের ভাল পরামর্শ দেয়ার অনুরোধ করেন। কারণ অনেক আম চাষী কৃষি অফিসারদের সাথে সাক্ষাত না করে কীটনাশক কোম্পানীর লোকদের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ চাইতে গেলে কোম্পানীর লোকজন তাদের স্বার্থ বজায় রেখে পরামর্শ দেন। ফলে অনেক কৃষক প্রতারণার শিকারও হচ্ছেন। 

তবে এখনই অনিরাশ  না হয়ে বাগানের সঠিক পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া ও খরা  যতদিন চলমান থাকবে ততদিন বাগানে পর্যান্ত  সেচ দেওয়া, তাপমাত্রা আরো বাড়লে সকালে বা বিকালে গাছে সরাসারি পানি স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষনা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় গাছ গুলোতে এবার মুকুল কম এসেছে, তবে ছোট গাছে ভালো মুকুল আছে। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করা গেলে, কৃষি বিভাগ যে সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারন করছে তার কাছাকাছি অন্তত  যাওয়া যাবে বলে আশা করছি আমরা।
 




জাতীয় - এর আরো খবর