শিরোনাম
  • ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল বাধ্যতামূলক সংবিধান বাতিল, রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবিতে বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেখ হাসিনাকে দেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে শিগগিরই সার্চ কমিটি গঠন ১২ বিচারপতির ছুটি নিয়মের মধ্যেই হয়েছে : রিজওয়ানা হাসান ৫৬ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করেছেন আব্দুল হান্নান  পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা 'শত্রুতামূলক পদক্ষেপ' : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা গ্রাফিতি পরিদর্শন ড.ইউনূসের যানজটের কারণে নষ্ট হচ্ছে দৈনিক প্রায় ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ১৮ দফা সুপারিশ
  • শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন ব্যাংক লুট করিয়ে

    জাগো কণ্ঠ ডেস্ক

    ১৮ অগাস্ট, ২০২৪ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

    শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন ব্যাংক লুট করিয়ে

    শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কী ক্ষতি করেছেন, বলতে পারেন?

    উনি বাংলাদেশের অনেকগুলো ব্যাংক লুট করিয়েছেন উনার অনুগতদের দিয়ে। এইটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি। এই ক্ষতির ক্ষত বাংলাদেশকে বয়ে বেড়াতে হবে বহু বছর।

    প্রথম আলো'র খবর অনুযায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম একাই নিয়ে গেছেন ৫০,০০০ কোটি টাকা; প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। 

    ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক আর ন্যাশনাল ব্যাংক- মোট আটটা ব্যাংক একাই দখল করে বসে ছিলেন এস আলম।

    এক ব্যাংক থেকেই যদি ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে থাকেন (এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, নিয়েছেন আরো বেশি), ৮ ব্যাংক থেকে কতো নিয়েছেন, ধারণা করেন।

    এই লুটপাট এস আলম একা একা করতে পারেননি। এস আলমকে সহায়তা করেছে শেখ হাসিনার সরকারের অনেকগুলো অঙ্গ।

    আপনি শিশু কিংবা পাগল না হলে এতোটুকু বুঝবেন, এই টাকাগুলো এস আলম একাই ভোগ করেননি। শেখ হাসিনা এবং তার বোনকেও ভাগ দিয়েছেন নিশ্চয়ই।

    সবচেয়ে বিপদের কথা হলো, লুট করা টাকাগুলো দেশে নেই। ডলারে রুপান্তর হয়ে বিদেশে পাচার হয়ে গেছে বেশিরভাগ টাকা। সেই লুটপাট এর অনুসন্ধান বন্ধ করতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে ব্যবহার করেছেন শেখ হাসিনা।

    বেসিক ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক- এরকম আরো অনেক ব্যাংকও লুটেছেন শেখ হাসিনার অন্যান্য লোকজন। অনেকগুলো লিজিং কোম্পানি লুট হয়েছে, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লুট হয়েছে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লুট হয়েছে। লুটপাট এমন মাত্রায় হয়েছে যে, সঠিক চিত্র তুলে আনাই মুশকিল।

    এই লুটপাটের কারণে এখন দেশের ব্যাংকগুলো খালি। আমাদের টাকার পারচেজিং পাওয়ার দিনদিন কমছে। আমাদের সামনে কঠিন দিন, কঠিন রাত।

    চাইলেই এই লুট করা টাকা ফিরিয়ে আনা যাবেনা। ডলার পাচার করা হয়ে গেলে সেগুলো ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব কাজ।

    লুটপাট করে আমাদের ভবিষ্যতকে কেমন করে অনিশ্চিত করে দিয়েছেন শেখ হাসিনার লোকেরা, তার একটা উদাহরণ দিই।

    ৩০.০৬.২০২৪ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের মোট সম্পদ ছিলো ২১৮,০৮৩ কোটি টাকা, মোট দায়ও তাই।

    মোট আমানত ছিলো ১৫৯,৪৬৮ কোটি টাকা। মোট বিনিয়োগ ১৭২,২৩৫ কোটি টাকা। আমানতের চেয়ে ঋণ ১২,৭৬৭ কোটি টাকা বেশি!

    এই ১৭২,২৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ এর মধ্যে অন্তত: ৫০,০০০ কোটি টাকা আর ফিরে আসবে না।

    এখন, ইসলামী ব্যাংক চলতে পারছে না। 

    বাংলাদেশ ব্যাংকে বিধিবদ্ধ জমা রাখতে হয় মোট আমানতের ৯.৫%। সেইটা রাখতে পারছে না। 

    আজকে বাংলাদেশ ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসেবের ব্যালান্স -৭,১২৮ কোটি টাকা।

    ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা অন্য ব্যাংকে ইচ্ছেমতো টাকা স্থানান্তর করতে পারছেন না। চেক ডিজঅনার হচ্ছে।

    এখন, ইসলামী ব্যাংকের ৫% আমানতকারীও যদি নিজেদের টাকা তোলার জন্য ব্যাংকের শাখাগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে যান, ব্যাংক টাকা দিতে পারবেনা।

    ইসলামী ব্যাংক তাহলে কী করবেন? বন্ধ করে দিবেন? সব আমানত ফেরত না দিয়ে তো ব্যাংক বন্ধ করে দেয়া যাবেনা। 

    ইসলামী ব্যাংক কি অন্য ব্যাংকের সাথে মার্জ করে দেবেন? কে নেবে এই দায়?

    ব্যাংকের লাভ থেকে এই ৫০,০০০ কোটি টাকা পুরিয়ে দেবেন? ইসলামী ব্যাংক বছরে ৩,০০০ কোটি টাকা লাভ করে। ট্যাক্স দেবার পরে ১,৫০০ কোটিও টেকে না। কতো বছর লাগবে?

    দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা। 

    ব্যাংক লুট করার পাশাপাশি বিদেশ থেকে লোন এনে উন্নয়নের নামে লুটপাটও করেছেন শেখ হাসিনা এবং তাঁর স্যাঙাতেরা।

    এখন, আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন বটে, কিন্তু উনাদের হাতে জাদুর কাঠি নেই। ঋণ পরিশোধ না করলে বিদেশীরা ছাড় দেবে না। এলসির ডলার না পাঠালে পণ্যও আসবে না।

    আগামীতে কেমন করে চলবে দেশ, এই চিন্তা বাংলাদেশের ১% মানুষও করছেন না। এমন সংকটেও মুক্তিযুদ্ধ, চেতনা, দলবাজি, অনুভূতি, আওয়ামী লীগ, বিএনপি - এইগুলা এদেশের মানুষের প্রধান সমস্যা।

    যেদিন বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের কিস্তি দিতে পারবেনা, আমদানির মূল্য পরিশোধ করতে পারবে না- সেইদিন খুব দূরে নয়।

    শেখ হাসিনা দেশের এই পরিমাণ ক্ষতি করার পরেও যারা চেতনার বুলি আওড়াচ্ছেন, শেখ হাসিনাকে আকারে ইঙ্গিতে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছেন, 'এই স্বাধীনতা চেয়েছিলাম' বলে ভেংচি কাটছেন- তাদের জন্য করুণা। আপনারা একটু বিবেকের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখে নিয়েন।

    ভিন্নমতকে সম্মান করি। একই সাথে আশা করি- বিবেক জাগ্রত হউক।

    (সংগৃহীত)




    বিশেষ কলাম - এর আরো খবর

    আমি সারাটা দিন মনে মনে তোমার সাথে কথা বলি

    আমি সারাটা দিন মনে মনে তোমার সাথে কথা বলি

    ১৮ অগাস্ট, ২০২৪ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন

    মোবাইল মেকানিক সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন

    মোবাইল মেকানিক সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন

    ১৮ অগাস্ট, ২০২৪ ১০:১৭ পূর্বাহ্ন