শিরোনাম

ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুসলিম দেশগেুলোকে এগিয়ে আসতে হবে: চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ মে, ২০২৪ ১০:৩৭ অপরাহ্ন

ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুসলিম দেশগেুলোকে এগিয়ে আসতে হবে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, আজকের গণমিছিল ন্যায়ের পক্ষে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় সোচ্চার থাকে। আজ ফিলিস্তিনের মা-বোনদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার করা হচ্ছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো সেই আমেরিকা মুখরোচক ভাবে তাদের মানবতার গল্প শোনায়। জালেম ইসরায়েল যেভাবে আজ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে তার পক্ষে সাফাই গেয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। 

তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ সরকার ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়ার ঘৃণ্য পায়তারা শুরু করেছে। এদের এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। তিনি ইসরায়েল সহ সারা তাদের সকল দোসরদের পণ্য বর্জনের আহবান জানান। ইসরাইল ফিলিস্তিনে নির্মমতার মাধ্যমে মা-বোন, শিশু ও পুরুষ হত্যা। আমেরিকার মানবতার শ্লোগান দিয়ে সবচেয়ে জঘন্যতম নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। আমেরিকার মদদেই ইসরাইল অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে। বর্তমান সরকার ফিলিস্তিনের জন্য অনেক মায়াকান্না করে, অথচ এরাই পাসপোর্ট থেকে এক্সেপ্ট ইসরাইল তুলে দিয়ে তলে তলে ইসরাইলের সাথে সখ্যতা করছে। এমন মোনাফেকি আচরণ মেনে নেয়া যায় না। সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, অথচ তারাই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি লালন করেন।

মুফতী রেজাউল করিম বলেন, আওয়ামী সরকারের কাজ দেখে আমাদের হাসি আসে। যেসব সিনিয়র অফিসার তাদের ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে, তাদের দুর্নীতির খবর সামনে আসার পর সরকার বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে জনগণকে বুঝ দিয়ে রাখছে। অথচ সরকার কী জানে না যারা দুর্নীতিবাজ তারা সবসময়ই দুর্নীতিবাজ

শুক্রবার বাদ জুম’আ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে দখলদার ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনে বেসামরিক নারী-পুরুষ-শিশু গণহত্যা বন্ধ, স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত করার দাবীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে স্মরণকালের বিশাল গণমিছিল পূর্ব জমায়েতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বক্তব্য রাখেন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানি, নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই, মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারি মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, ছাত্রনেতা নূরুল বশর আজিজী, ডা. শহিদুল ইসলাম, কেএম শরীয়াতুল্লাহ মুফতি ফরিদুল ইসলাম, আলামিন সোহাগ, উত্তর সভাপতি হাফিজুল হক ফাইয়াজ।

দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন, যুব আন্দোলন সভাপতি যুবনেতা মাওলানা নেছার উদ্দিন ও মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকীর পরিচালনায় গণমিছিল পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জুমা গণমিছিল হওয়ার কথা থাকলেও জুমার পূর্বেই বায়তুল মোকাররম এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল গণমিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন মোড়, বিজয়নগর নাইঙ্গেল হয়ে নয়াপল্টন ফকিরাপুল, দৈনিকবাংলা গিয়ে মুনাজাতের মাধ্যমে গণমিছিল সমাপ্ত হয়। মিছিলের মাথা যখন দৈনিকবাংলা তখনও আরেক মাথা বিজয়নগরই থেকে যায়।

প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, ১৯৬৭ সাল থেকে শুরু করে অদ্যাবধি ফিলিস্তিনে নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপর ইসরায়েলী আগ্রাসন ও নৃশংসতা করে যাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই সহ্য করা যায়না। তিনি কুরআনে আল্লাহর নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এখনার বসে থাকার সময় নেই। মাওলানা মাদানী মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী রাষ্ট্রসমুহের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা ইসরায়েলে তেল-গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেন। অন্যথায় মুসলিম বিশ্ব আপনাদের ছেরে দেবেনা। ইরানে ইবরাহীম রাঈসির মৃত্যুকে ইসরায়েলের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেন মাওলানা মাদানী।

সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন, আমরা ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। ইসরাইল জোর করে, হত্যা, খুন, ধর্ষণ করে সেখানে অরজাকতা সৃষ্টি করে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভুইফোর একটা রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদেরকে অন্যায়ভাবে সমর্থন করে যাচ্ছে আমেরিকা। তিনি বলেন, আমরা মুসলমান জাতি। কখনোই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনা। প্রয়োজনে সংগ্রাম, লড়াই ও জিহাদের মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি দেশবাসীকে ইসরায়েলি এবং তাদের সমর্থনকারী দেশের পন্য বর্জনের আহবান জানান।

নায়েবে আমীর আল্লাহ আব্দুল হক আজাদ বলেন, আমেরিকা যদি ইসরায়েলকে সমর্থন না দেয় তবে এক সপ্তাহের মধ্যে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইসরায়েল হারিয়ে যাবে। তিনি এদেশ থেকে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইচছুক সাধারণ জনতাকে ফিলিস্তিনের সাহায্যার্থে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেন। একই সাথে দেশবাসির প্রতি ইসরায়েলি পন্য বর্জনের আহবান জানান।

মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ ফিলিস্তিনকে সমর্থনকারী দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান একইসাথে ইসরায়েলকে সমর্থনকারী দেশগুলোকে ধিক্কার জানান। তিনি বলেন ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা আর চুপ থাকতে পারিনা।

যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আজ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জাতিসংঘের নিরব ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন ইসরায়েলকে আমেরিকা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারও তলে তলে ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে। পাসপোর্ট থেকে এ্যাকসেপ্ট ইসরায়েল তুলে দেয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। ইসরাইলের বর্বরতা রুখে দিতে হবে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করে মুসলমানের কব্জায় নিয়ে আসতে হবে। সেইসাথে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কার্যকরি ভুমিকা পালনের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।




রাজনীতি - এর আরো খবর