এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের জন্মদিনে নিবেদন

জাগো কণ্ঠ ডেস্ক

২৭ জুন, ২০২৪ ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন

এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের জন্মদিনে নিবেদন

১৫ জুন, বাংলাদেশ পুলিশের একজন মহানায়ক মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) -এর জন্মদিনে তার সফলতা কামনা ও বিশেষ নিবেদন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালে। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের পরেও বাংলাদেশকে বারবার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে বিভিন্ন সময়ে নানান হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশ বরাবরই এসব দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। আর বিভিন্ন সময়ে পুলিশের এসব কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন একেকজন মহানায়ক। তেমনই একজন মহানায়ক বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান। 

পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই মনিরুল ইসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সুদৃঢ় মনোবল বারবার সফলতা এনে দিয়েছে। তিনি অত্যন্ত সাদামাটা ও কোমল হৃদয়ের মানুষ। অথচ শত্রুপক্ষ, জঙ্গী এবং সন্ত্রাসীদের জন্য তিনি এক আতঙ্কের নাম। 

মনিরুল ইসলাম ১৯৭০ সালের ১৫ জুন গোপালগঞ্জ জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এসএসসি এবং এইচএসসি তে কৃতিত্বের সাথে ভালো ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণের পর তিনি ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে সাধারণত দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পান। ইংরেজি বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। 

তিনি ১৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণের মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে "সহকারী পুলিশ সুপার" (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, তিনি ১৫তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম (১ম) স্থান অর্জন করেছিলেন।

পরবর্তীতে মনিরুল ইসলাম "বিট্রিশ নর্থামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়" থেকে "আইন" বিষয়ে আবারো স্নাতক সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত স্বনামধন্য বিভাগ "অপরাধ বিজ্ঞান" থেকে আবারো স্নাতকোত্তর করেন এবং একই বিভাগে তিনি খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসও নেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোসাইড স্টাডিজ বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা (PGD) করেছেন। 

মনিরুল ইসলাম একজন অত্যন্ত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। এতো ব্যস্ততার মধ্যেও সময় সুযোগ পেলেই স্যার লেখালেখি করেন। স্যারের লেখা বই যথাক্রমে "Terrorism in Bangladesh" এবং "পথভোলা পথিকেরা" বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে স্যারের লেখা এই বইগুলো পাঠকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিলো। 

মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) বিসিএস পুলিশ ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ-BPSA) এর সভাপতির দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছেন। তিনি পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোপূর্বে তিনি সংগঠনটির সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সংগঠনটিকে স্যার নিজের পরিবারের মতো ভালোবাসায় ও মায়ায় আগলে রেখেছেন। 

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ৷ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা অনেক বেশি। এছাড়াও ভৌগোলিকগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এবং বিশ্ব রাজনীতির পেক্ষাপটে পৃথিবীর মানচিত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো বিশ্বনেতাদের চোখ সবসময় থাকে বাংলাদেশের দিকে। 

একটা সময় ছিলো পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যেতো নৈরাজ্য, সন্ত্রাসী, জঙ্গি কর্মকাণ্ড। অথচ সেগুলো এখন ইতিহাস। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ পুলিশ এখন শতভাগ সফল। 

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। আর বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে এই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিরসনে মনিরুল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। 

আমরা সবাই জানি, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ একটা রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এজন্য জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন সরকারের জন্য সবসময় সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে বাংলাদেশ পুলিশ দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছে। জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের যেই জিরো টলারেন্স নীতি আছে, সেই নীতি বাস্তবায়ন করার জন্য মনিরুল ইসলাম পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই ছিলেন অত্যন্ত তৎপর। 

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে বর্তমানে দেশে জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ যখন ফুল দমে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিলো ঠিক সেই মুহুর্তে এটাকে দমন করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের "Counter Terrorism and Transnational Crime" (CTTC) নামের একটি ইউনিট গঠন করা হয়। 

জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্য শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। শুরু থেকেই জনবল বৃদ্ধি, উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধাদি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জননিরাপত্তা ও সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মহান দায়িত্ব বাংলাদেশ পুলিশের উপর ন্যস্ত। সফলতার সাথে এ দায়িত্ব পালন করতে নিরলস প্রয়াস চালাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে, একই সাথে পুলিশও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিনিয়ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতি দমনে জনসচেতনতা গড়তে বারবার আহ্বান জানাচ্ছে পুলিশ। এই আহবানে সাড়া দিয়েই পুলিশ ও জনসাধারণের প্রচেষ্টায় দ্রুততার সাথে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মুক্ত একটি স্বচ্ছ রাষ্ট্র৷ 

আর জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট "Counter Terrorism & Transnational Crime" (CTTC) প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম (বার)। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবেও তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য  মনিরুল ইসলাম স্যার বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) এ ভূষিত হয়েছেন। তিনি অসংখ্যবার অত্যন্ত সম্মানজনক ও গৌরবময় এই পদক-প্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়াও অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য তিনি পুলিশের "আইজি ব্যাজ" পেয়েছেন। 

পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, "তোমাদের একটা কথা ভুললে চলবে না, তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ, তোমরা ইংরেজের পুলিশ নও, তোমরা পাকিস্তানি শোষকদের পুলিশ নও, তোমরা বাংলাদেশের জনগণের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা, জনগণকে ভালোবাসা, দুর্দিনে জনগণকে সাহায্য করা"। 

পুলিশের দায়িত্ব পালনে মনিরুল ইসলাম স্যার বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শকে সব সময় বুকে ধারণ করে চলেন। বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস এমন একজন মহানায়ককে মর্যাদার সাথে সবসময় স্মরণ করবে ইনশাআল্লাহ।  ১৫ জুন, বাংলাদেশ পুলিশের একজন মহানায়ক অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় মনিরুল ইসলামের জন্মদিন। তার অনাগত ভবিষ্যতের জন্য দোয়া ও শুভকামনা থাকবে সবসময়।




বিশেষ কলাম - এর আরো খবর

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস 

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস 

২৭ জুন, ২০২৪ ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন