- Advertisement -
হোম আন্তর্জাতিক বিল-মেলিন্ডা: প্রত্যাখ্যানে শুরু যে প্রেমের

বিল-মেলিন্ডা: প্রত্যাখ্যানে শুরু যে প্রেমের

- Advertisement -

বিল গেটসের সঙ্গে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল অদ্ভুতভাবে। মেলিন্ডার প্রত্যাখ্যানে কাছাকাছি এসেছিলেন তারা। তারপর বিয়ে করে বেঁধেছিলেন ঘর। ২৭ বছর পর তারা ঘোষণা দিলেন আলাদা হওয়ার।

ঘর ভাঙার এই খবর মঙ্গলবার আসার পর থেকে তা গণমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

কেননা মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস যেমন ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী; তেমনি মেলিন্ডাও ফোর্বসের তালিকায় বিশ্বের শক্তিমান নারীদের একজন। দুজনের সেবামূলক কাজও বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

বিল-মেলিন্ডার জুটি বাঁধার সূচনাটি হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। তখন বিল গেটসের মাইক্রোসফটে নবীন কর্মী হিসেবে সদ্য যোগ দিয়েছিলেন মেলিন্ডা।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর এমবিএ করেই মাইক্রোসফটে যান তিনি। তখন তার বয়স ২৩ বছর, মাইক্রোসফটে কাজ শুরু করেছিলেন প্রডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে।

ক’বছর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসে কলামনিস্ট নিকোলাস ক্রিস্তফ লিখেছিলেন ১৯৮৭ সালে বিল আর মেলিন্ডার প্রথম দেখাটি নিয়ে।

ক্রিস্তফ লিখেছিলেন, মেলিন্ডা শুরু থেকেই স্বাধীনচেতা। পার্কিংলটে দেখা হয়েছিল দুজনের। বিল মজা করে তাকে বলেছিলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে তার সঙ্গে বেড়াতে যেতে মেলিন্ডা রাজি কি না? মেলিন্ডা তখন ‘না’ বলে দিয়েছিলেন।

মেলিন্ডা সেদিন বিলকে বলেছিলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজি হওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব যথেষ্ট নয়, দিনক্ষণ আরও সুনির্দিষ্ট হওয়া দরকার।

ক্রিস্তফ লিখেছেন, এর ঘণ্টাখানেক পর বিল ফোন করেন মেলিন্ডাকে। তিনি বলেন, আজ সন্ধ্যায়ই তা হতে পারে, আর এটা যথেষ্ট কি না?

সেটা যে যথেষ্ট ছিল, তা পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহেই প্রমাণিত। বিবিসি লিখেছে, তারপর নিউ ইয়র্কের একটি রেস্তোরাঁয় তাদের ‘ডেটিং’ গড়ায় পরিণয়ের দিকে।

সম্পর্কের শুরুটা নিয়ে বিল গেটস নেটফ্লিক্সের এক প্রামাণ্যচিত্রে বলেছিলেন, “আমরা পরস্পরের প্রতি খুব সহানুভূতিশীল ছিলাম। ফলে সামনে কেবল দুটি পথই ছিল, এক আমরা দুজন আলাদা হয়ে যাব, দুই আমরা দুজন ঘর বাঁধব।”

১৯৯৪ সালে বিয়ে করেন বিল-মেলিন্ডা। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের লানাইয়ে। বিবিসি জানিয়েছে, সেই অনুষ্ঠানে অনাকাঙিক্ষত অতিথি এড়াতে দ্বীপের সব হেলিকপ্টার ভাড়া নিয়ে বসিয়ে রেখেছিলেন ধনকুবের বিল গেটস।

মেলিন্ডা মাইক্রোসফটের মহাব্যবস্থাপকের পদেও উঠেছিলেন। আর বিল ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

বেশ কয়েক বছর ধরে তারা দুজন বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনেই সময় দিচ্ছিলেন। বিশ্বে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ক্ষেত্রে অবহেলিত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ২০০০ সালে তারা এই সংস্থাটি গড়ে তোলেন।

সেবামূলক কাজে মনোযোগ দিতে গত বছর বিল মাইক্রোসফটের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সরে দাঁড়ান। তাদের ফাউন্ডেশনের বর্তমানে সম্পদের পরিমাণ ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এই ফাউন্ডেশনে দুজন সমান অংশীদার। ২০১৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা বলেছিলেন, “এখানে আমি আর বিল সমান অংশীদার। কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান হওয়া উচিৎ।”

তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের এই সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক কী প্রভাব পড়বে এখনও স্পষ্ট নয়।

বিল ও মেলিন্ডার তিন সন্তান। বাবা-মার বিচ্ছেদের প্রতিক্রিয়ায় তাদের ২৫ বছরের মেয়ে জেনিফার গেটস ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন- “এটা আমাদের গোটা পরিবারের জন্যই চ্যালেঞ্জের একটি সময়। আমি কীভাবে এগিয়ে যাব, কীভাবে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করব, তা এখনও শিখছি।”

বিচ্ছেদের ঘোষণায় বিল-মেলিন্ডা বলেছেন, অনেক চিন্তাভাবনা করেই তারা বিয়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

একসঙ্গে থেকে ফাউন্ডেশন গড়া, মানুষের জন্য কাজ করার বিষয়গুলো তুলে ধরেই তারা বলেন, “এখন আর আমরা মনে করি না যে জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে দম্পতি হিসেবে চলতে পারব।”

একসাথে দুই যুগ কাটানোর পর যখন আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন মেলিন্ডার বয়স ৫৬ বছর, আর সংখ্যা দুটো উল্টে দিলে দাঁড়ায় বিল গেটসের বয়স, ৬৫ বছর।

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও সংবাদ

- Advertisement -