- Advertisement -
হোম ধর্ম ইসলামে শ্রম ও শ্রমিক

ইসলামে শ্রম ও শ্রমিক

- Advertisement -

পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ইসলামে শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা অপরিসীম। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কোরআনুল কারিম ও হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আজ অব্দি পৃথিবীতে যা কিছু গড়ে উঠেছে, তা সবই শ্রমের ফল এবং শ্রমিকের কৃতিত্ব। ইসলাম শ্রমিক ও শ্রমকে যথার্থ মূল্যায়ন করেছে। একমাত্র ইসলাম ধর্মই শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে মূলনীতি ও বিধান প্রবর্তন করেছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন অতঃপর নামাজ সমাপ্ত হলে জীবিকার্জনের জন্য তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা আল জুমআহ : ১০)। আল্লাহ এরশাদ করেন নিশ্চয়ই আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি। (সুরাবালাদ : ৪)। কোরআনে আরও এরশাদ হয়েছে সর্বোত্তম শ্রমিক সে, যে দৈহিক দিক দিয়ে শক্ত-সমর্থ্য ও আমানতদার। (সুরা কাসাস : ২৬)।

পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে বহু নবী-রাসুল এমনকি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহও (সা.) শ্রমজীবী ছিলেন। নবী-রাসুল এবং সাহাবায়ে কেরামরা নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা উপার্জন করেছেন। আমাদের প্রথম নবী হজরত আদম (আ.) ছিলেন দুনিয়ার প্রথম চাষি, হজরত শুয়াইব (আ.) ও হজরত হারুন (আ.) এর পেশা ছিল পশু পালন ও দুধ বিক্রি। হজরত মুসা (আ.) ছিলেন একজন রাখাল। ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ব্যবসায়ী। এছাড়াও হজরত লুত ও হজরত শিস (আ.) ছিলেন কৃষক, হজরত ইদরিস (আ.) ছিলেন দর্জি, হজরত নুহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি, হজরত ইবরাহিম (আ.), হজরত ইয়াকুব (আ.), হজরত হুদ (আ.) সালেহ (আ.) ছিলেন ব্যবসায়ী। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন আল্লাহ দুনিয়াতে এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি ছাগল ও ভেড়া চরাননি। তখন সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসুল (সা.) আপনিও? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ! আমিও মজুরির বিনিময়ে মক্কাবাসীর ছাগল ও ভেড়া চরাতাম। (বোখারি : ১৩৪০)। হাদিসে এরশাদ হয়েছে কারও জন্য নিজ হাতের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার্য বা খাদ্য আর নেই। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতের কামাই খেতেন। (মিশকাত শরিফ : ২৭৫৯)।

হজরত রাসুল (সা.) শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে মালিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও। (ইবনে মাজাহ : ৮১৭)। হজরত আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন অধীনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (ইবনে মাজাহ : ২৬৯৭)। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও এরশাদ করেন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি কেয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষের প্রতিপক্ষ। আর আমি যার প্রতিপক্ষ, তাকে পরাজিত করবই। তন্মধ্যে একশ্রেণি হলো, যে কোনো শ্রমিক নিয়োগ করে, অতঃপর তার থেকে পুরো কাজ আদায় করে নেয়; কিন্তু তার পারিশ্রমিক প্রদান করে না। (বোখারি দ্বিতীয় খ- : ৭৭৬)।

রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেসা করা হয়েছিল, কোন ধরনের উপার্জন উত্তম ও শ্রেষ্ঠ? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, ব্যক্তির নিজ হাতে কাজ করা এবং সৎ ব্যবসা। (সুয়ুতি আদদুররুল মানসুর, খ-৬, পৃষ্ঠা ২২০)। হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুশয্যার সময়ও নামাজ এবং অধীনদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন। (ইবনে মাজাহ : ৫১৯)। (সূত্র-আলোকিত বাংলাদেশ)।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও সংবাদ

- Advertisement -