- Advertisement -
হোম ধর্ম মঞ্জু আরার কোরআন শিক্ষার ব্যতিক্রমী আসর

মঞ্জু আরার কোরআন শিক্ষার ব্যতিক্রমী আসর

- Advertisement -

জাগো কণ্ঠ ডেস্ক: অভাবে পড়তে পারে নাই। পড়তে মনে চায়। কিন্তু লজ্জায় পড়তে পারছে না। এমন শিশু-কিশোরী ও বয়স্ক নারীদের ধর্মীয় শিক্ষা দিতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের গালা গ্রামের মঞ্জু আরার বাড়িতে গড়ে উঠেছে কোরআন শিক্ষার আসর।

শুক্রবার ছাড়া দুপুর দুইটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে আরবি পড়া। সংসারের কাজের ফাঁকে ফাঁকে সাত বছর ধরে চলছে এই কোরআন শেখার আসর। তাও আবার বিনা মূল্যে।

উপজেলার আলমদী গ্রামের রেহেনা বেগম বলেন, ‘আমি তো নামাজ পড়তে পারি না। বাংলা, আরবি পড়তেও পারি না। বাবা-মা গরিব। পড়ালেখা শেখায় নাই। ছোট সময় বিয়ে দিছে। বাচ্চা কাচ্ছা হইছে। পরে তাদের লেখা পড়া শিখাইছি। বাড়িঘর করছি। সংসারের কাজের জন্যে নামাজ-রোজা করতে পারি নাই। ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিছি। এখন সংসারে কাজ নাই তেমন। তাই আরবি পড়তে আসছি।’

গালা গ্রামের ৫০ ঊর্ধ্ব রোকেলা বেগম বলেন, ‘সবাই এক সাথে পড়ি, ভালো লাগে। দুনিয়ার কাজ তো করলামই। এহন পরকালের কাজ করি একটু। ভাবি (মঞ্জু আরা) কোরআন পড়ায়। আমরাও পড়তে আসি। রোজা নামাজ করি। আমগো খুব ভালো লাগে।’

স্কুল শিক্ষার্থী সাদিয়া ও রিমা আক্তার জানায়, ছোট বেলায় মক্তবে পড়া হয় নাই। একটু বড় হয়েই স্কুলে ভর্তি করে দেয় বাবা। এর জন্য আরবি পড়া হয়নি। তাই এখানে এসেছে তারা।

সাদিয়া বলে, ‘আমাদের পড়তে অনেক ভালো লাগে। এর জন্য পড়তে আসি। এখন আশপাশের মানুষও পড়তে আসতে শুরু করেছে।’

স্থানীয় অভিভাবক শেফালী আক্তার জানান, মঞ্জু আরা) কোনো দিন কারো কাছ থেকে টাকা পয়সা নেননি। উল্টো যাদের কোরআন, রেহেল, গিলাফ ও টুপি নাই বা কেনার স্বার্থ নাই তাদের তিনি কিনে দেন।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যখন কোরআন পড়া শুরু করল, তখন খুশি হয়ে কিছু টাকা দিতে চাইছিলাম। কিন্তু টাকা নেয় নাই। উল্টা আমারে অনেক কথা বলেছেন।’

মঞ্জু আরা বলেন, ‘যারা মক্তবে যায় না, অনেকে আবার বড় হয়েছে, লজ্জায় পায়; এছাড়া এলাকার কিছু বউ ও বয়স্ক মুরুব্বি আছেন যারা সঠিক পদ্ধতিতে নামাজ পড়তে জানেন না, কোরআনও পড়তে পারেন না। তাদের জন্য সাত বছর আগে এই কাজ শুরু করেন। প্রথমে এক জন দিয়ে শুরু হলেও এখন প্রায় ৮০ জন আরবি শিখতে আসেন।’

তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় শিক্ষার্থী কম থাকায় কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এখন শিক্ষার্থী বাড়ায় রোদ বৃষ্টিতে সমস্যা হয় তাদের। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে ঘর তুলতে পারছেন না তিনি।

‘যদি কেউ ঘর তুলে দেয় তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে’- আর্থিক সহযোগিতা না নিলেও এই বিষয়টিতে আপত্তি করবেন না বলে জানান মঞ্জু আরা।

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও সংবাদ

- Advertisement -