- Advertisement -
হোম রাজনীতি লকডাউনের সুযোগে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুলের অভিযোগ

লকডাউনের সুযোগে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে: ফখরুলের অভিযোগ

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক: লকডাউনের সুযোগে সরকার বিরোধীদল দমনে ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের এই ক্রান্তিকালে দেশের মানুষের ভাল-মন্দ তোয়াক্কা না করে কেবলমাত্র নিজেদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই সরকার বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম চালানোকে দৈনন্দিন কর্মসূচিতে পরিণত করেছে। গত ২৬ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১৭৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, লকডাউনের সুযোগ নিয়ে ভয়াবহ করোনা ও রমজানে গ্রাম-শহর, পাড়া-মহল্লায় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। সর্বত্র আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কেউ যাতে টু শব্দ উচ্চারণ করতে না পারে, সেজন্যই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোকে লক্ষ্য হিসেবে ধরে নিয়েছে সরকার। নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুন ইত্যাদি অপকর্মের মাধ্যমে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে তারা। এর মাধ্যমে দেশকে তারা কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দেশকে বিএনপি শূন্য করাই যেন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এখন প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, যেহেতু এ সরকার নির্বাচিত নয়, তাদের কোনো গণভিত্তি নেই। অত্যাচার নির্যাতন, গ্রেফতার, হামলা-মামলা দিয়েই তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে, সে কারণে এ পবিত্র রমজান মাসেও তারা এ ধরনের হীন কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাদের চক্রান্ত ষড়যন্ত্র হচ্ছে এটাই যে, তারা যে করে হোক, গ্রেফতার, হত্যা, গুম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বিরোধীদলের যে সংবিধানসম্মত অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা- সব কিছুকে দমন করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাস্তবায়িত করতে চায়।
বাংলাদেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের যে সরকার আছে, তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা আজ নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করা হয়েছে। মিডিয়াকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এভাবে দেশে একটা অসম্ভব রকমের নিপিড়নকারী কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
ফখরুল বলেন, বর্তমানে মহামারী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় আক্রমণে বাংলাদেশের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের কাছে মানুষের অর্থ, অস্ত্র, ক্ষমতা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণে মৃত্যুভয় সবাইকে জড়োসড়ো করে ফেলেছে। প্রতিদিন মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে মানুষের দুয়ারে হাজির হচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা। দ্বিতীয় ধাপের করোনা সংক্রমণে গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যুর তালিকা লম্বা হয়েই যাচ্ছে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসকে যদি এখনি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে তা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে।
তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী সরকার আরো বেশি আগ্রাসী নাৎসীবাদী পথ অবলম্বন করে বিরোধী দলকে নি:শেষ করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারের এ ফ্যাসিবাদী নিষ্ঠুর আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করতে গিয়েও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে সরকারের সাঁড়াশী আক্রমণে পড়তে হয়েছে। ২০২১ থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারের জোরালো হিড়িক শুরু হয়েছে।
ফখরুল বলেন, হেফাজতে ইসলাম বা তাদের কোন কর্মসূচির সঙ্গে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন সম্পর্ক না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেফাজত সংশ্লিষ্ট মামলাতেও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে তাদেরকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন এবং রফিকুল আলম মজনুসহ দেশব্যাপী গ্রেফতারকৃত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহবান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, করোনায় আক্রান্ত দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন পর্যন্ত ভালো আছেন। সারাদেশের মানুষের দোয়ায় আশা করি, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।#

 

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও সংবাদ

- Advertisement -