- Advertisement -
হোম ধর্ম রোজার নিয়ত করা ফরজ

রোজার নিয়ত করা ফরজ

- Advertisement -

মুফতি আতিকুল্লাহ বিন আসাদ: রোজার নিয়ত করা ফরজ। রোজার জন্য মৌখিক নিয়ত করা জরুরি নয়; বরং অন্তরে রোজার সংকল্প করাই যথেষ্ট। এমনকি রোজার উদ্দেশ্যে সাহরি খেলেই রোজার নিয়ত হয়ে যায়। সুতরাং এ কথা ভাবার কোনো সুযোগ নেই যে, মুখে রোজার নিয়ত না করলে রোজা হবে না। তবে নিয়ত মুখে বলা মুস্তাহাব। কেউ যদি নিয়ত করে রোজা রাখতে চায়, তা হলে এভাবে নিয়ত করতে হবে ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আজকে রোজা রাখছি।’ আর ইবাদতের সওয়াব নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। হাদিস শরিফে আছে, ‘সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (বোখারি : ১/২)।

রোজার নিয়তের ক্ষেত্রে আরবি ভালোভাবে বলতে পারলে ও বুঝলে আরবিতে নিয়ত করা যাবে। অন্যথায় বাংলায় নিয়ত করাই ভালো। কেউ আরবিতে নিয়ত করলে এরূপ বলবে ‘নাওয়াইতুআন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদান।’ অর্থাৎ ‘রমজান মাসের আগামীকালের রোজা রাখার নিয়ত করছি।’ মুখে উচ্চারণ করার মাধ্যমে নিয়ত করা উত্তম। (বেহেশতি জেওর : ৩/৩)। নিয়তের ক্ষেত্রে অন্তরের সুদৃঢ় কর্মতৎপরতা গ্রহণযোগ্য। কাজেই শুধু মুখের উচ্চারণ কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, যদি তা অন্তরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়। কেননা শুধু মুখের উচ্চারণকে কথা বলা হয়; নিয়ত বলা হয় না। (দুররুল মুখতার : ২/৯১)। রমজান মাসে সাহরি খাওয়াটাও রোজার নিয়ত বলে গণ্য হবে। তবে সাহরি খাওয়ার সময় রোজা রাখার ইচ্ছা না থাকলে তা নিয়ত বলে গণ্য হবে না। (কিতাবুল ফিকাহ : ১/৮৮১)।

ফরজ রোজার নিয়ত রাতেই করা উত্তম। উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনÑ ‘যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজা রাখার নিয়ত করবে না তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।’ (আবু দাউদ : ১/৩৩৩)। রাতে নিয়ত করতে না পারলে দিনে সূর্য ঢলার প্রায় এক ঘণ্টা আগে নিয়ত করলেও রোজা হয়ে যাবে। হজরত সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) বলেন, (আশুরার রোজা যখন ফরজ ছিল তখন) রাসুলুল্লাহ (সা.) আসলাম গোত্রের একজন ব্যক্তিকে ঘোষণা করতে বললেন, ‘যে সকাল থেকে কিছু খায়নি সে বাকি দিন রোজা রাখবে। আর যে খেয়েছে সেও বাকি দিন রোজা রাখবে। কারণ আজ আশুরা দিবস।’ (বোখারি : ২০০৭)।

প্রত্যেক রোজার নিয়ত পৃথক পৃথকভাবে করতে হবে। কারণ প্রতিটি রোজা ভিন্ন ভিন্ন আমল বা ইবাদত। আর প্রতিটি আমলের জন্যই নিয়ত করা জরুরি। পুরো রমজানের জন্য একত্রে নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৫)। রাতে (সাহরির সময় থাকা অবস্থায়) রোজার নিয়ত করলেও সুবহে সাদেক পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী মিলনের অবকাশ থাকে। এতে নিয়তের কোনো ক্ষতি হবে না। অনেকে মনে করেন, রোজার নিয়ত করার পর কিছু পানাহার করা যাবে না। এমন ধারণা ঠিক নয়। মূলত রোজার নিয়তের সময় শুরু হয় আগের দিনের সূর্যাস্তের পর থেকে। যেমন- বুধবারের রোজার নিয়ত মঙ্গলবারে দিবাগত রাত তথা সূর্যাস্তের পর থেকে করা যায়। কিন্তু মঙ্গলবার সূর্যাস্তের আগে বুধবারের রোজার নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৭৭)।

লেখক : খতিব, রোশাদিয়া শাহি জামে মসজিদ, উত্তরা, ঢাকা (সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ)।

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও সংবাদ

- Advertisement -