- Advertisement -
হোম জাতীয় স্বাগতম মাহে রমজান: মদিনা শরিফের খুতবা

স্বাগতম মাহে রমজান: মদিনা শরিফের খুতবা

- Advertisement -

শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বুআইজান: রমজান মাস চলে এসেছে। শ্রেষ্ঠতম সময়। আনুগত্যের মহান মৌসুম। ইস্তেগফার, তওবা এবং ইবাদতের মাস। আনুগত্য, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং বিগলিত ও বিনীত হওয়ার মাস। দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে আখেরাতের দিকে ধাবিত হওয়ার মাস। ভোগবিলাসিতা আর প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে বিরত থাকার মাস। ‘তোমরা তোমাদের রবের দিকে ধাবিত হও।’

আনুগত্য আর ইবাদতের দিকে আগ্রহী হওয়ার সময়। অতএব আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার নবায়ন করুন। বিচারের আগে নিজেই নিজের হিসাব-নিকাশ করুন। ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমুখী হও এবং তার আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আজাব আসার আগে। এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ উত্তম বিষয়ের অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অতর্কিতে ও অজ্ঞাতসারে আজাব আসার আগে। যাতে কেউ না বলে, হায়হায় আল্লাহর সকাশে আমি কর্তব্যে অবহেলা করেছি এবং আমি ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’ (সুরা যুমার : ৫৪-৫৮)।

আল্লাহর নেয়ামত ও অুনগ্রহ পাওয়ার আনন্দ আর তাঁর দয়া ও ক্ষমার প্রত্যাশা নিয়ে রমজান মাসকে বরণ করুন। অবহেলাকারী, আল্লাহর বিষয়ের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপকারীর মতো নয়। ‘বল, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানিতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা সঞ্চয় করছ।’ (সুরা ইউনুস : ৫৮ )।

যথাযোগ্য সম্মান, মর্যাদা আর ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রমজানকে বরণ করুন। কারণ রমজান যথাযোগ্য সম্মানের যোগ্য। ‘এটা শ্রবণযোগ্য। আর কেউ আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিধানাবলির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে পালনকর্তার কাছে তা তার জন্য উত্তম।’ (সুরা হজ : ৩০)। ‘এটা শ্রবণযোগ্য। কেউ আল্লাহর নামযুক্ত বস্তুগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতিপ্রসূত।’ (সুরা হজ : ৩২)।

তওবার মাসকে তওবার মাধ্যমে, দানের মাসকে দানের মাধ্যমে, কোরআনের মাসকে কোরআনের মাধ্যমে, দোয়ার মাসকে দোয়ার মাধ্যমে, আনুগত্যের মাসকে আনুগত্যের মাধ্যমে এবং দয়ার মাসকে দয়ার মাধ্যমে বরণ করুন।

রমজান প্রাপ্তি এক অনন্য নেয়ামত, যার কৃতজ্ঞতা আদায়ে যথাযথ প্রস্তুতি, পরিশ্রম ও সাধনার দাবি রাখে। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘বরকতের মাস এসেছে, আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে আচ্ছাদন করে নেন। অতএব রহমত নাজিল হয়, গোনাহ মাফ হয়, দোয়া কবুল হয়, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতিযোগিতা দেখেন। তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করেন। তাই তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে কল্যাণ দেখাও। দুর্ভাগা সে, যে রমজানে আল্লাহর রহমত বঞ্চিত হয়।’ (মুজাম তাবরানি)।

অতএব একজন মোমিনের দায়িত্ব হলো আল্লাহর আনুগত্যে প্রতিযোগিতা করা। ভালো কাজে অগ্রগামী হওয়া। অতএব হে কল্যাণ অন্বেষী, অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের পথিক থেমে যাও।

সে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান, যে রমজান পেয়ে এই সুযোগকে কাজে লাগায়। সে মূলত সফল এবং আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য। হতভাগা সে, যে এই সুযোগকে হাতছাড়া করে লজ্জিত হয় এমন সময়, যখন তার সেই লজ্জা আর কাজে আসবে না।

দুর্ভাগা সে, যে রমজান পেয়ে তার গোনাহ মার্জনা করাতে পারল না। বরং আল্লাহ তাকে দূরে ঠেলে দিলেন। দুর্ভাগা সে, যে রমজান পেয়ে তার গোনাহ মার্জনা করাতে পারল না। বরং আল্লাহ তাকে দূরে ঠেলে দিল। দুর্ভাগা সে, যে রমজান পেয়ে তার গোনাহ মার্জনা করাতে পারল না। বরং আল্লাহ তাকে দূরে ঠেলে দিল।

হৃদয়ের অনুশীলন প্রয়োজন। উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন সিঁড়ি। সে দৃষ্টিকোণ থেকে আনুগত্যের কাজে সর্বোৎকৃষ্ট সাহায্য এবং রমজানকে স্বাগত জানানোর সর্বোত্তম পদ্ধতি হচ্ছে তওবা করা। দৃঢ়তার সঙ্গে অঙ্গীকার নবায়ন করুন। কেননা, পাপমুক্তি কল্যাণের কাজে উৎসাহিত করে। অবিচলতা, আত্মশুদ্ধি এবং ত্রুটি সংশোধনে সাহায্য করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা নুর : ৩১০)।

রমজান তওবা, সফলতা ও বিজয়ের মাধ্যম। সংশোধনের সূচনা। ‘মোমিনরা! তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা কর আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সুরা তাহরিম : ৮)।

২৭ শাবান ১৪৪২ হিজরি মদিনার মসজিদে নববিতে প্রদত্ত খুতবার সংক্ষিপ্ত

অনুবাদ মুহিউদ্দীন ফারুকী (সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ)।

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও সংবাদ

- Advertisement -