- Advertisement -
হোম শীর্ষ সংবাদ করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী:নয় দিনে বেড়েছে ২ শতাংশ

করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী:নয় দিনে বেড়েছে ২ শতাংশ

- Advertisement -

দেশে যেকোনো সময় করোনার পূর্ণাঙ্গ সংক্রমণ শুরু হতে পারে। বর্তমানে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বি-১৬১৭ আমাদের দেশে এখন নিত্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। এটাও ভাবনার বিষয়। এক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণের চলাফেরায় পূর্ণাঙ্গ বিধি-নিষেধ আরোপ করতে হবে। প্রয়োজনে সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে সিল করতে হবে-এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, ইতোমধ্যে দেশে ৯ জন করোনা আক্রান্তর নমুনা পরীক্ষা করে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। কাছাকাছি সময়ে যারা ভারত থেকে এসেছেন এবং করোনা আক্রান্ত হয়েছে তাদের সবার নমুনা জিনোম সিকুয়েন্সিক করতে দেওয়া হয়েছে। সিকুয়েন্সিং সম্পন্ন শেষ হলে আরও অনেকের শরীরে এর অস্তিত্ব পাওয়া যেতে পারে। তাই এখনই সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ দিনে শনাক্তের হার বেড়েছে ২ শতাংশ। গত ১৫ মে শনাক্ত হন ২৬১ জন; ১৬ মে শনাক্ত হন ৩৬৩ জন এবং ১৭ মে শনাক্ত হন ৬৯৮ জন। এই তিন দিন শনাক্তের হার ছিল ৭ শতাংশ। গত ১৮ মে শনাক্ত হন ১২৭২ জন; ১৯ মে শনাক্ত হন ১৬০৮ জন। এই দু’দিন শনাক্তের হার ছিল ৮ শতাংশ। এরপর ২০ মে শনাক্ত হন ১৪৫৭ জন এই দিন আক্রান্তের হার ৭ শতাংশে নামে। কিন্তু পরের দু’দিন যথাক্রমে ২১ ও ২২ মে শনাক্ত হন ১৫০৪ এবং ১০২৮। এই দু’দিন শনাক্তের হার ৮ শতাংশ। রোববার শনাক্ত হয় ১৩৫৪ জন, এই দিন শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯ শতাংশ। সংক্রমণ চূড়ায় ওঠার আগের অবস্থা বিরাজ করছে এখন। গত বছরও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত পুরোপুরি সিল করতে হবে। ভারত থেকে যেই দেশে আসবে তার বিষয়ে থানায় রিপোর্ট করতে হবে। তাদের অবশ্যই আইসোলেন ও কোয়ারেন্টিন করতে হবে। এটা না করা হলে আমাদের অবস্থা ভারতের মতো হবে। ভারত ফেরতদের তথ্য পুলিশকে জানাতে এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার আখাউড়া ও বিবিরবাজার; যশোরের বেনাপোল; পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা; কক্সবাজার- টেকনাফ; ফেনীর বিলুনিয়া; রাজশাহীর সোনা মসজিদ; সাতক্ষীরার ভোমরা, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা; লালমনিরহাটের বুড়িমারি, কুড়িগ্রামের সোনাহাট ও তুরা রোড, রৌমারী; দিনাজপুরের হিলি ও রাধিকাপুর; সিলেটের তামাবিল; গোয়াইনঘাট, সুতারকান্দি-বিয়ানিবাজার; হবিগঞ্জ-জকিগঞ্জ; বাল্লা চুনারুঘাট, মৌলভীবাজারের ফুলতলা, চাতলা; ময়মনসিংহের নাকুগাঁও; শেরপুরের- গোবরা কুড়া, হালুয়াঘাট; জামালপুরের – ধানুয়া বকশিগঞ্জ থেকে বৈধ পথে প্রতিদিন ভারতে থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রবেশ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব স্থলবন্দর থেকে দেশে ৪৬৬ জন দেশে প্রবেশ করেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, এটা করোনার ভারতীয় ধরন হতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্স করতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেলে আসা করোনা রোগীদের অর্ধেকই আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে।

রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নজমুল ইসলাম বলেছেন, এ পর্যন্ত আমাদের দেশে ৯ জনের শরীরে ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট’ শনাক্ত হয়েছে। ভারত ভ্রমণের তথ্য রয়েছেন এমন আরও অনেকের নমুনার ‘জিনোম সিকুয়েন্স’ করা হচ্ছে। এসব তথ্য এলে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ সংক্রান্ত মুখপাত্র এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নজমুল ইসলাম বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব জেলায় স্থলবন্দর ব্যতীত অন্য পথে লোক ঢুকছে বলেও শুনেছি। যদিও এখনো কোনো প্রমাণ আমাদের হাতে আসেনি। তবে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পরিচালকদের সঙ্গে তিনি বুধবার সভা করেছি। সভায় জেলাগুলোর প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নজরদারিীআরও বাড়াতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভারতে এই ভ্যারিয়েন্ট গত ৫ অক্টোবর প্রথম শনাক্ত হয় মহারাষ্ট্রে। সম্প্রতি এটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। ভারতের নতুন ধরনের করোনা ভ্যারিয়েন্ট কোনোভাবেই যেন ছড়াতে না পারে সেজন্য সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ। গত ২৬ এপ্রিল থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে এবং এখনো বলবৎ । তবে যেসব বাংলাদেশির ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তারা ভারতে বাংলাদেশি দূতাবাসের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন।

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও সংবাদ

- Advertisement -