- Advertisement -
হোম জাতীয় করোনা আক্রান্ত খালেদার অবস্থা স্থিতিশীল

করোনা আক্রান্ত খালেদার অবস্থা স্থিতিশীল

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এছাড়া তার গৃহকর্মী ফাতেমা সহ গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ অবস্থানরত আরও ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আর খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অন্যদের করোনা আক্রান্তের তথ্য জানান।
তবে খালেদা জিয়া ভালো আছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।
রোববার বিকালে দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
পরে রোববার বাসভবনে খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুন সাংবাদিকদের
জানান, খালেদা জিয়ার কোনো করোনার উপসর্গ নেই। কিন্তু তার গৃহকর্মী ফাতেমাসহ ৮ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় খালেদা জিয়ার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে প্রথমদিকে তার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।
ডা. মামুন বলেন, খালেদা জিয়ার করোনার কোনো উপসর্গ না থাকলেও পরবর্তী কিছু ঘটলে তার চিকিৎসা রাজধানীর একটি হাসপাতালে তার জন্য একটা কেবিনের বন্দোবস্ত করে রাখা হয়েছে।
এর আগে রোববার সকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তরফ থেকে খালেদার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানানো হলেও কিছু বলছিল না তার পরিবার ও বিএনপি। রিপোর্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দলের কেউ কেউ।
এমনকি শনিবার খালেদার করোনার নমুনা নেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করে দেয় তার প্রেস উইং। ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুনের বরাত দিয়ে প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, করোনা পরীক্ষার জন্য খালেদা নমুনা নেননি।
পরে রোববার বিকালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এসময় তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গতকাল (শনিবার) আইসিডিডিআরবিতে তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা আজকে (রোববার) যেটা পেয়েছি সেই টেস্ট রিপোর্টটা পজেটিভ। অর্থাৎ তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে ফখরুল বলেন, প্রফেসর ডা. এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক যারা আছেন, তাদের তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তিনি ভাল আছেন, স্ট্যাবল আছেন।
খালেদা জিয়ার অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, তার কোনো টেম্পারেচার নেই, অন্য কোনো উপসর্গও তার নেই। তার চিকিৎসা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক যারা আছেন তারা দেশের অত্যন্ত বরণ্যে চিকিৎসক তাদের তত্ত্বাবধায়নে আছেন এবং তিনি ভালো আছেন।
তিনি জানান, তার চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ যদি কোনো প্রয়োজন হয়, তখন সেই ভাবেই ফারদার টিট্রমেন্টের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাচ্ছি যে, এ ব্যাধি এখন যেভাবে সারা দেশে একটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে সেই প্রেক্ষিতে দেশবাসীকে আমরা আহবান জানাব, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও আহবান জানিয়েছেন যে, তার জন্য, তার মুক্তির জন্য সবাই যেন দোয়া করেন।
বিশেষ করে আমাদের দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের আহবান থাকবে যে, তারা দেশনেত্রীর রোগমুক্তির জন্য পরম করুনাময় আল্লাহ’তালার কাছে দোয়া চাইবে এবং সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে তারা যেন দোয়া করেন। আমাদের অনুরোধ থাকবে যে, স্থানীয় মসজিদে তার জন্য দোয়া করবেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকা গৃহকর্মী ফাতেমাসহ অন্যদের সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ওখানে যারা আছেন তাদের সম্পর্কে আমি বলতে পারবো না। আমরা শুধু উনারটাই জেনেছি। যেটা আমি সুনিশ্চিতভাবে বলেছি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ভাগ্নে ডা. মামুন টেস্ট করা হয়নি বলে এর আগে যে তথ্য দিয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি হয়ত জানতেন না। এ বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। এটা উনার কাছে জানতে চান। আমার যেটা দায়িত্ব আপনাদেরকে জানানোর সেটা আমি জানিয়েছি।
খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে নিজের বাসা ‘ফিরোজায়’ আছেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুন রহমান দাবি করেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়ার নমুনাই নেওয়া হয়নি।
শনিবার বিকালে ডা. মামুন বেসরকারি হাসপাতালের একজন টেকনোলজিস্ট নিয়ে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসায় গেলে খবর ছড়িয়েছিল যে তিনি পরীক্ষা করাচ্ছেন।
তবে পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা দেননি খালেদা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন মামুন।
রোববার নমুনা পরীক্ষার একটি প্রতিবেদন আসে সোশাল মিডিয়ায়। ‘করোনাভাইরাস পজিটিভ’ ওই প্রতিবেদন খালেদা জিয়ার বলে লেখা রয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের একটি প্রতিবেদন দেখায়। যেখানে রোগীর নাম দেখায় বেগম খালেদা জিয়া। আর আইসিডিডিআরবিতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান রোববার দুপুরে বলেন, আমাদের কাছে যে রিপোর্ট এসেছে, তাতে উনার (খালেদা) করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।এজন্য নমুনা শনিবারই সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে সোশাল মিডিয়ায় খবর আসার পর খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুন বলেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের নমুনাই নেওয়া হয়নি।
নমুনা সংগ্রহ কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে পাওয়া যায়নি।
৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়।
তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগও সীমিত।
জাসাসের দোয়া ও মিলাদ: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ^াস, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিশিষ্ট সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমনসহ জাসাস, বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব নেতাদের আশু রোগমুক্তি ও সুস্থ্যতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাসের আয়োজনে গতকাল রোববার বাদ জোহর গুলিস্তান বঙ্গবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাসাসের সহ সভাপতি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ চৌধুরী, ইঞ্জিঃ জাকির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, দফতর সম্পাদক শাহ মোঃ বিল্লাল হোসেন, সেমিনার বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল আহম্মেদ চৌধুরী, সহ-দপ্তর মিজানুর রহমান, শাহাবাগ থানা বিএনপি নেতা সামছুদ্দিন ভূইয়া, জাসাস ঢাকা মহানগরী যগ্ম আহবায়ক মোঃ আবদুল জব্বার, মিজান ভান্ডারী, জাসাস নেতা মীর হোসেন মিলন প্রমুখ।#

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

আরও সংবাদ

- Advertisement -