জানালেন সচিব মোকাব্বির হোসেন

পাসপোর্টের ভুল তথ্য সংশোধন হবে এনআইডির ভিত্তিতে 

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ১১:০০ অপরাহ্ন

পাসপোর্টের ভুল তথ্য সংশোধন হবে এনআইডির ভিত্তিতে 
সচিব মোকাবিবর হোসেন

এখন থেকে কারও পাসপোর্টে ভুল তথ্য থাকলে তা জাতীয় পরিচরপত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে সংশোধন করা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন।


বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) জাগো কণ্ঠকে তিনি বলেছেন, আগে অনেকেই পাসপোর্টে বিভিন্নভাবে ভুল-ত্রæটি করেছে। এখন আমরা পাসপোর্টের তথ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচরপত্রটাকে (এনআইডি) ভিত্তি হিসেবে ধরছি। এটাই তার মৌলিক পরিচয়। তাই কেউ পাসপোর্টে পরিবর্তন করতে চাইলে এনআইডির তথ্য-প্রমাণ দিলে সংশোধন করে দেওয়া হবে।


তবে যারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে আছে, তাদের চাহিদা অনুযায়ী পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তন করে দেওয়া যাবে না বলে উল্লেখ করেন মোকাব্বির হোসেন। তিনি বলেন, যারা দেশে আছে, তাদের নাম ভুল বা অন্য কোন সমস্যা থাকলে এনআইডির ভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এর আগে গত ২৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে ‘তথ্য সংশোধনপূর্বক দেশে ও বিদেশে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদনসমূহ নিষ্পত্তিকরণ’ বিষয়ে এক পরিপত্রে ৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তাতে বলা হয়, পাসপোর্টে নাম (নিজ, পিতা ও মাতা) ও বয়স সংশোধনের জন্য-প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে এনআইডি/জেএসসি/জেডিসি/এসএসসি/এইচএসসি/দাখিল/কারিগরি/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের সনদপত্র বিচেনা করতে হবে; যাদের এ ধরণের সনদপত্র নেই তাদের ক্ষেত্রে জন্মসনদ বিবেচনা করতে হবে; অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মসনদ বিবেচনা করতে হবে; প্রয়োজনে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রদত্ত তথ্য যাচাই করা যেতে পারে; আবেদনে বয়স পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বছরের ব্যবধান পর্যন্ত বিবেচনা করা যাবে।


এ পরিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, আন্ত:মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে প্রবাসীদের জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। 


উল্লেখ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মিল রেখে পাসপোর্ট সংশোধনের সুযোগের দাবিতে গত অক্টোবরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগীরা। ‘আমরাই বাংলাদেশ’ নামে একটি ব্যানারে ওই অবস্থান কর্মসূচিতে ভুক্তভোগীরা বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একাডেমিক সার্টিফিকেটের সঙ্গে কিছুটা অমিল থাকার কারণে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে পাসপোর্ট অফিসে। কিন্তু, পাসপোর্ট সংশোধনের কোনো কিনারা হচ্ছে না। বরং অফিসের লোকজন ও স্টাফরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। তারা কোনো সমাধানও দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা। আমরা এই পাসপোর্টের কাছে জিম্মি থাকতে পারি না।


ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক দিন ধরে পাসপোর্ট সংশোধনের প্রচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। এতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তারা এই সমস্যার সমাধান চান।


অবশেষে এনআইডির ভিত্তিতে পাসপোর্ট সংশোধনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভুক্তভোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো।